বাংলাদেশে উৎপাদন খাতে বিনিয়োগ
মোঃ জয়নাল আব্দীন
প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট বাংলাদেশ (T&IB)
নির্বাহী পরিচালক, অনলাইন ট্রেনিং একাডেমি (OTA)
মহাসচিব, ব্রাজিল–বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (BBCCI)
বাংলাদেশ বর্তমানে উৎপাদননির্ভর বিনিয়োগের জন্য একটি নির্ধারক পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। গত দুই দশকে দেশটি প্রথমে তৈরি পোশাক শিল্পের মাধ্যমে এবং এখন ধীরে ধীরে ওষুধ, জুতা, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, প্লাস্টিক, কৃষি-প্রক্রিয়াজাত পণ্য ও ভোক্তা পণ্যের মতো খাতে সম্প্রসারণ ঘটিয়ে একটি প্রতিযোগিতামূলক বৈশ্বিক উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন করেছে। বিনিয়োগকারীদের জন্য সুযোগটি শুধু বাংলাদেশের পরিসর ও কম খরচের সুবিধায় সীমাবদ্ধ নয়, বরং অবকাঠামো উন্নয়ন, অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং উন্নত কমপ্লায়েন্স কাঠামোর দিকে চলমান রূপান্তরের মধ্যেও নিহিত, যখন দেশটি একটি নতুন বাণিজ্য ও বিনিয়োগ যুগের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক ব্যাখ্যা করে কেন উৎপাদন খাত বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির কেন্দ্রে রয়েছে: সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উৎপাদন খাতের মূল্য সংযোজন মোট দেশজ উৎপাদনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশের কাছাকাছি অবস্থান করছে এবং ২০২৪ সালে বিশ্বব্যাংকের উন্নয়ন সূচক অনুযায়ী এটি ছিল জিডিপির ২১.৮৯ শতাংশ। এটি একটি শক্তিশালী ভিত্তি, যা বৈচিত্র্যময় শিল্প ইকোসিস্টেম, সরবরাহকারী নেটওয়ার্ক ও রপ্তানি ক্লাস্টার গড়ে তোলার জন্য যথেষ্ট বড়, আবার একই সঙ্গে উৎপাদনশীলতা উন্নয়ন ও খাত সম্প্রসারণের জন্য উল্লেখযোগ্য সুযোগ রেখে দেয়।
একই সময়ে, বাংলাদেশের রপ্তানি কাঠামো শক্তি ও তাগিদের উভয় বার্তাই বহন করে। তৈরি পোশাক শিল্প এখনো মূল স্তম্ভ; বিভিন্ন সূত্র অনুযায়ী পোশাক খাত বাংলাদেশের মোট রপ্তানির ৮০ শতাংশেরও বেশি জোগান দেয় এবং এই শিল্পে প্রায় ৪০ লক্ষ মানুষ কর্মরত। উৎপাদন খাতে বিনিয়োগকারীদের জন্য এটি একটি দ্বৈত সংকেত বহন করে: একদিকে বাংলাদেশ ইতোমধ্যে বড় পরিসরে রপ্তানিমুখী কারখানা পরিচালনার সক্ষমতা অর্জন করেছে, অন্যদিকে উচ্চমূল্য সংযোজন, প্রযুক্তিনির্ভর ও পোশাকবহির্ভূত উৎপাদন খাতে দ্রুত বৈচিত্র্য আনার প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট।
বাংলাদেশের উৎপাদন শিল্পের বর্তমান অবস্থা
বাংলাদেশের উৎপাদন ভিত্তিকে মূলত তিনটি পরস্পরসংযুক্ত স্তরে বোঝা যায়। প্রথম স্তরটি হলো পরিপক্ব রপ্তানি ইঞ্জিন বড়, পরিচালনাগতভাবে দক্ষ কারখানাসমূহ, যা বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলের সঙ্গে সংযুক্ত এবং যার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে তৈরি পোশাক শিল্প। শিল্পের রপ্তানি কার্যক্রম সম্পর্কিত তথ্য নিয়মিতভাবে প্রকাশিত হয়, যা এই খাতের ব্যাপকতা ও আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সংযুক্তির প্রমাণ দেয়। পোশাক শিল্পের ইকোসিস্টেমের মাধ্যমে প্যাকেজিং, এক্সেসরিজ, লেবেল, ওয়াশিং, কমপ্লায়েন্স সিস্টেম ও লজিস্টিকসের মতো গভীর সক্ষমতাও গড়ে উঠেছে, যা এখন অন্যান্য উৎপাদন খাতেও কাজে লাগানো হচ্ছে।
দ্বিতীয় স্তরটি হলো দ্রুত বর্ধনশীল “সংলগ্ন” উৎপাদন খাত—যেসব শিল্প দেশীয় চাহিদা পূরণের পাশাপাশি রপ্তানিও বাড়াচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে ওষুধ, খাদ্য ও পানীয় প্রক্রিয়াজাতকরণ, প্লাস্টিক, সিরামিক ও ভোক্তা পণ্য সংযোজন শিল্প। বৃহৎ অভ্যন্তরীণ বাজার, ক্রমবর্ধমান নগর ভোগ এবং আঞ্চলিক রপ্তানি সম্ভাবনা এসব খাতকে এগিয়ে নিচ্ছে।
তৃতীয় স্তরটি হলো পরবর্তী তরঙ্গের শিল্পায়ন ক্ষেত্র লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, অটোমোটিভ কম্পোনেন্ট, ইলেকট্রনিক্স সাব-অ্যাসেম্বলি, টেকনিক্যাল টেক্সটাইল, নবায়নযোগ্য জ্বালানি উপাদান ও শিল্পসেবা। এসব খাত এখনো পোশাক শিল্পের মতো বড় নয়, তবে প্রযুক্তি, গুণগত মান ব্যবস্থা ও রপ্তানি বাজার উন্নয়নের মাধ্যমে এখানেই দেশীয় ও বিদেশি বিনিয়োগকারীরা প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা তৈরি করতে পারেন।
দুটি সামষ্টিক বাস্তবতা নিকট ভবিষ্যতের চিত্রকে প্রভাবিত করছে। প্রথমত, বিনিয়োগ পরিবেশ ও প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বিভিন্ন অর্থনৈতিক সংবাদমাধ্যমে উল্লেখ করা হয়েছে যে ২০২৩–২৪ অর্থবছরে নিট এফডিআই প্রায় ১.৪৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছিল, যা কিছু সূচকে আগের বছরের তুলনায় কম। এটি অর্থনৈতিক অস্থিরতা ও অর্থায়ন সীমাবদ্ধতার একটি সময়কে নির্দেশ করে। বিনিয়োগকারীদের জন্য এর অর্থ হলো শক্তিশালী প্রকল্প কাঠামো, বৈদেশিক মুদ্রা ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং নীতিগত সহায়তা ও অবকাঠামো প্রস্তুত থাকা খাত ও এলাকায় বিনিয়োগের গুরুত্ব বেড়ে যায়।
দ্বিতীয়ত, অর্থনৈতিক অঞ্চল ও শিল্প জমি। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অঞ্চল কৌশল বর্তমানে পুনর্বিন্যাসের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে দেখা যায়, অতিরিক্ত সংখ্যক অঞ্চলের পরিবর্তে সীমিত সংখ্যক “প্রস্তুত” অঞ্চলে অগ্রাধিকার দেওয়ার দিকে ঝোঁক বাড়ছে। সরকারি সংবাদে অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত অঞ্চলগুলোকে ঘিরে উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ আকর্ষণের প্রত্যাশার কথাও উঠে এসেছে। বাস্তব দিক থেকে এর অর্থ হলো বিনিয়োগকারীদের ঘোষণার চেয়ে বাস্তব প্রস্তুতিতে বেশি মনোযোগ দেওয়া উচিত, যেমন ইউটিলিটি সংযোগ, সড়ক, বন্দর সংযোগ ও প্রকৃত জমি হস্তান্তরের সময়সূচি।

বাংলাদেশের প্রধান উৎপাদন শিল্পসমূহ
বাংলাদেশের উৎপাদন খাত বিস্তৃত হলেও কিছু শিল্প আকার, ইকোসিস্টেমের গভীরতা বা রপ্তানি সক্ষমতার কারণে বিশেষভাবে প্রভাবশালী। তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল শিল্প এখনো সবচেয়ে বড় নিয়োগদাতা ও রপ্তানিকারক, যেখানে সুতা, কাপড়, এক্সেসরিজ, প্রিন্টিং, ওয়াশিং ও প্যাকেজিংয়ের মতো ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ দ্রুত বিকশিত হয়েছে। এই খাতের কৌশলগত দিকনির্দেশনা হলো মূল্য সংযোজন বৃদ্ধি, ম্যান-মেড ফাইবারভিত্তিক পণ্য, টেকনিক্যাল টেক্সটাইল, টেকসই উৎপাদন ও স্বয়ংক্রিয়তা ও লিন সিস্টেমের মাধ্যমে উৎপাদনশীলতা বাড়ানো।
ওষুধ শিল্প একটি ক্রমবর্ধমানভাবে উন্নত দেশীয় উৎপাদন ভিত্তি গড়ে তুলেছে, যার রপ্তানি উচ্চাকাঙ্ক্ষাও রয়েছে। বিনিয়োগের সুযোগ মূলত প্রযুক্তি স্থানান্তর, নিয়ন্ত্রিত বাজারের কমপ্লায়েন্স ব্যবস্থা, বায়োসিমিলার, উচ্চমূল্যের জেনেরিক ও বিশেষায়িত প্যাকেজিং ও কোল্ড চেইনে নিহিত।
জুতা ও চামড়াজাত পণ্য খাতে শ্রমপ্রাপ্যতা ও বৈশ্বিক সোর্সিং বৈচিত্র্যের কারণে রপ্তানি সম্ভাবনা রয়েছে, তবে পরিবেশগত কমপ্লায়েন্স, রাসায়নিক ব্যবস্থাপনা ও ট্রেসেবিলিটি আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী নিশ্চিত করা জরুরি।
কৃষি-প্রক্রিয়াজাত ও খাদ্য উৎপাদন শিল্প বৃহৎ কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি ও অভ্যন্তরীণ বাজারের সুবিধা পায়। যেখানে ট্রেসেবিলিটি, সার্টিফিকেশন ও কোল্ড চেইন নিশ্চিত করা যায়, সেখানেই প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, মসলা, রেডি-টু-কুক পণ্য ও হালাল খাতে রপ্তানি সম্ভাবনা বেশি।
প্লাস্টিক, প্যাকেজিং ও হালকা ভোক্তা পণ্য খাত দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে, যা দেশীয় ভোগ ও অন্যান্য শিল্পের চাহিদার ওপর নির্ভরশীল। আধুনিক রিসাইক্লিং ও সার্কুলার প্যাকেজিং ভবিষ্যতে বড় প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা হয়ে উঠতে পারে।
সিরামিক ও নির্মাণসামগ্রী শিল্প নগরায়নের গতি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধি দেখাচ্ছে, যেখানে জ্বালানি দক্ষ উৎপাদন ও প্রিমিয়াম পণ্যের সুযোগ রয়েছে।
লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং ও শিল্প উপাদান খাত একটি কৌশলগত সক্ষমতা খাত, যা টুলিং, যন্ত্রাংশ, ছোট মেশিনারি ও শিল্পসেবা সরবরাহ করে সমগ্র অর্থনীতির উৎপাদনশীলতা বাড়ায়।
বিনিয়োগ সম্ভাবনাময় উৎপাদন খাতসমূহ
দেশীয় ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য সর্বোচ্চ সম্ভাবনাময় সুযোগগুলো সাধারণত চারটি বিষয়ে মিলিত হয়: স্কেলযোগ্য চাহিদা, পরিচালনাযোগ্য কমপ্লায়েন্স, রপ্তানি সক্ষমতা এবং সরবরাহকারী ইকোসিস্টেম গঠন।
প্রথমত, পোশাকবহির্ভূত রপ্তানি বৈচিত্র্য। জুতা, সিনথেটিক পণ্য, হোমওয়্যার, প্যাকেজিং ও নির্বাচিত ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্যের মতো খাতে বাংলাদেশ “চীন+১” ও “দক্ষিণ এশিয়া+১” বৈশ্বিক সোর্সিং প্রবণতা কাজে লাগাতে পারে।
দ্বিতীয়ত, শিল্প ও ভোক্তা কম্পোনেন্ট ইকোসিস্টেম। শুধুমাত্র চূড়ান্ত পণ্য সংযোজনের পরিবর্তে ট্রিমস, ফার্মা প্যাকেজিং, ফুড-গ্রেড প্যাকেজিং, ইলেকট্রিক্যাল এক্সেসরিজ, মোল্ডেড প্লাস্টিক ও ধাতব কম্পোনেন্টের মতো খাতে বিনিয়োগ দ্রুত স্কেল তৈরি করতে পারে।
তৃতীয়ত, সবুজ উৎপাদন ও সম্পদ দক্ষতা। বাংলাদেশের জলবায়ু ও জ্বালানি বাস্তবতা দক্ষতাকে প্রতিযোগিতামূলক অস্ত্রে পরিণত করেছে। অতিরিক্ত তাপমাত্রা ও জলবায়ু চাপ উৎপাদনশীলতা ও খরচকে প্রভাবিত করতে পারে, ফলে উন্নত কারখানা নকশা, শক্তি ব্যবস্থাপনা ও সহনশীল অপারেশনের গুরুত্ব বাড়ছে। শক্তি দক্ষ প্ল্যান্ট, পানি ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশবান্ধব ব্যবস্থা গ্রহণকারী বিনিয়োগকারীরা দীর্ঘমেয়াদে সুবিধা পাবেন।
চতুর্থত, রপ্তানি লজিস্টিকস সুবিধাসহ অঞ্চলভিত্তিক উৎপাদন। প্রস্তুত অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলো জমি, ইউটিলিটি ও কাস্টমস সুবিধার মাধ্যমে সমন্বয় ব্যয় কমাতে পারে, যদি সেগুলো প্রকৃত অর্থেই কার্যকর হয়।
পঞ্চমত, এলডিসি উত্তরণোত্তর চাপের প্রেক্ষাপটে কমপ্লায়েন্সনির্ভর উন্নয়ন। বাংলাদেশ যখন স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের পথে এগোচ্ছে, তখন প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা উৎপাদনশীলতা ও গুণগত মানের ওপর আরও নির্ভরশীল হয়ে উঠছে। এটি বিনিয়োগকারীদের জন্য মানসম্মত কারখানা গড়ার সুযোগ সৃষ্টি করছে।
উৎপাদন শিল্প উন্নয়নের চ্যালেঞ্জসমূহ
বাংলাদেশের উৎপাদন খাতে বিনিয়োগের সুযোগ বাস্তব হলেও সঠিক পরিকল্পনা অপরিহার্য। অবকাঠামো এখনো অসম বন্দর জট, অভ্যন্তরীণ পরিবহন বিলম্ব ও ইউটিলিটির নির্ভরযোগ্যতা এলাকাভেদে ভিন্ন। তাই জাতীয় গড়ের ওপর নির্ভর না করে বাস্তব লজিস্টিক সময় ও বিদ্যুৎ সরবরাহ যাচাই করে স্থান নির্বাচন করা জরুরি।
বৈদেশিক মুদ্রা ও বাণিজ্য অর্থায়নের সীমাবদ্ধতা কখনো কখনো মূলধনী যন্ত্রপাতি ও কাঁচামাল আমদানিতে প্রভাব ফেলে, যা প্রকল্প সময়সূচিকে প্রভাবিত করতে পারে।
নিয়ন্ত্রক সমন্বয় এখনও জটিল হতে পারে। যদিও ওয়ান স্টপ সার্ভিস চালু হয়েছে, কার্যকর বাস্তবায়নের জন্য শক্তিশালী স্থানীয় সক্ষমতা দরকার।
দক্ষ জনবল উন্নত হলেও মধ্যম স্তরের কারিগরি দক্ষতা রক্ষণাবেক্ষণ, কোয়ালিটি ইঞ্জিনিয়ারিং ও অটোমেশন এখনো চ্যালেঞ্জ।
পরিবেশ ও সামাজিক কমপ্লায়েন্স এখন আর ঐচ্ছিক নয়; ট্রেসেবিলিটি ও নথিভুক্তকরণ ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
বিনিয়োগকারী ও নীতিনির্ধারকদের জন্য সুপারিশ
বাংলাদেশে সফল উৎপাদন বিনিয়োগ সাধারণত সুস্পষ্ট মূল্য প্রস্তাবের ওপর দাঁড়িয়ে থাকে—দ্রুত বাজারে প্রবেশ, বিশেষায়িত গুণমান বা কমপ্লায়েন্স নেতৃত্ব।
শুধু শ্রম খরচের ওপর নির্ভর না করে লেআউট, লিন সিস্টেম ও ডিজিটাল ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে উৎপাদনশীলতা নকশার মধ্যেই অন্তর্ভুক্ত করা উচিত।
যৌথ উদ্যোগ প্রযুক্তি স্থানান্তর ও বাজার প্রবেশের কার্যকর মাধ্যম হতে পারে, যদি সুশাসন ও স্পষ্ট কাঠামো থাকে।
নীতিগতভাবে প্রস্তুত শিল্প জমি ও নির্ভরযোগ্য ইউটিলিটি দ্রুত বিনিয়োগ আকর্ষণের মূল চাবিকাঠি।

বিনিয়োগকারীদের বিবেচ্য অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ দিক
বাজার প্রবেশ ও গ্রাহক কৌশলকে কারখানা পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বিবেচনা করা জরুরি। স্থানীয় সরবরাহ শৃঙ্খল যত শক্তিশালী হবে, উৎপাদন ততই স্থিতিশীল হবে। ডিজিটাল অপারেশন যেমন উৎপাদন পরিকল্পনা ও শক্তি পর্যবেক্ষণ দ্রুত বিনিয়োগের সুফল দিতে পারে।
সমাপনী মন্তব্য
বাংলাদেশে উৎপাদন খাতে বিনিয়োগ মূলত পরিসর, অভিযোজনক্ষমতা ও একটি পরীক্ষিত শিল্প শ্রমশক্তির ওপর আস্থা রাখার বিষয়। উৎপাদন খাত মোট জিডিপির প্রায় এক-পঞ্চমাংশ জুড়ে থাকা প্রমাণ করে যে শিল্পায়ন এখানে পরীক্ষামূলক নয়, বরং অর্থনীতির চালিকাশক্তি। বৈচিত্র্য ও মানোন্নয়নের সংযোগস্থলে অবস্থিত সুযোগগুলোই এখন সবচেয়ে আকর্ষণীয়। সঠিক স্থান নির্বাচন, শৃঙ্খলাবদ্ধ পরিচালনা ও সহনশীল পরিকল্পনার মাধ্যমে বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশের শিল্পায়নের পরবর্তী অধ্যায়ে শক্ত অবস্থান নিতে পারেন।

