বাংলাদেশে একটি বিদেশি কোম্পানির শাখা অফিস কীভাবে প্রতিষ্ঠা করবেন
মোঃ জয়নাল আব্দীন
প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট বাংলাদেশ (টিএণ্ডআইবি)
সম্পাদক, টিএন্ডআইবি বিজনেস ডিরেক্টরি; নির্বাহী পরিচালক, অনলাইন ট্রেনিং একাডেমি
মহাসচিব, ব্রাজিল বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (বিবিসিসিআই)
দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম আকর্ষণীয় বিনিয়োগ গন্তব্য হিসেবে বাংলাদেশ নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। ক্রমবর্ধমান অর্থনীতি, বৃহৎ ভোক্তা বাজার, প্রতিযোগিতামূলক শ্রম ব্যয়, কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থান এবং বৈশ্বিক বাজারের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান সংযোগের কারণে বহু বিদেশি কোম্পানি বাংলাদেশে তাদের উপস্থিতি প্রতিষ্ঠার সুযোগ অনুসন্ধান করছে।
বাংলাদেশে কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বিদেশি কোম্পানিগুলোর সবচেয়ে প্রচলিত পদ্ধতিগুলোর একটি হলো একটি শাখা অফিস (Branch Office) স্থাপন করা। একটি শাখা অফিস বিদেশি কোম্পানিকে পৃথক কোনো আইনগত সত্তা প্রতিষ্ঠা না করেই বাংলাদেশে অনুমোদিত ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ দেয়।
তবে বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরু করার পূর্বে বিদেশি কোম্পানিকে অবশ্যই বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (BIDA) থেকে পূর্বানুমোদন গ্রহণ করতে হবে। সমগ্র প্রক্রিয়ার মধ্যে এটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।
এই বিস্তারিত নির্দেশিকায় বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য বাংলাদেশে একটি শাখা অফিস প্রতিষ্ঠা সম্পর্কিত সকল গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আলোচনা করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে:
- শাখা অফিস কী
• শাখা অফিসের জন্য অনুমোদিত কার্যক্রম
• বিডা অনুমোদনের প্রয়োজনীয়তা
• প্রয়োজনীয় দলিলপত্র
• সরকারি ফি
• সময়সীমা
• নিবন্ধন প্রক্রিয়া
• অনুমোদন-পরবর্তী প্রতিপালন সংক্রান্ত বাধ্যবাধকতা
• এড়িয়ে চলার মতো সাধারণ ভুলসমূহ
• বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য বাস্তবধর্মী পরামর্শ
বাংলাদেশে শাখা অফিস সম্পর্কে ধারণা
একটি শাখা অফিস হলো বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠিত কোনো বিদেশি কোম্পানির সম্প্রসারিত কার্যক্রম। এটি পৃথক কোনো আইনগত সত্তা নয়। শাখা অফিসের সকল দায়, বাধ্যবাধকতা এবং কার্যক্রমের জন্য মূল কোম্পানি সম্পূর্ণভাবে দায়ী থাকে।
প্রতিনিধি অফিস বা লিয়াজোঁ অফিসের বিপরীতে, একটি শাখা অফিস বিডা কর্তৃক অনুমোদিত নির্দিষ্ট বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে। তবে অনুমোদনপত্রে উল্লেখিত কার্যপরিধির মধ্যেই এর কার্যক্রম সীমাবদ্ধ থাকতে হবে।
সাধারণত একটি শাখা অফিস মূল কোম্পানির একই নামে পরিচালিত হয় এবং মূল প্রতিষ্ঠানের কর্তৃত্বাধীন থাকে।
কেন বিদেশি কোম্পানিগুলো শাখা অফিস নির্বাচন করে?
অনেক বিদেশি কোম্পানি সহায়ক কোম্পানি প্রতিষ্ঠার পরিবর্তে শাখা অফিস প্রতিষ্ঠা করতে পছন্দ করে, কারণ:
১. প্রাথমিক স্থাপনা প্রক্রিয়া তুলনামূলক সহজ
অনুমোদন পাওয়ার আগে বাংলাদেশে নতুন কোম্পানি নিবন্ধনের প্রয়োজন হয় না।
২. মূল কোম্পানির সরাসরি নিয়ন্ত্রণ
মূল কোম্পানি সম্পূর্ণ পরিচালনাগত নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে পারে।
৩. দ্রুত বাজারে প্রবেশ
সম্পূর্ণ বিদেশি মালিকানাধীন কোম্পানি প্রতিষ্ঠার তুলনায় শাখা অফিস দ্রুত প্রতিষ্ঠা করা যায়।
৪. সেবাভিত্তিক প্রতিষ্ঠানের জন্য উপযোগী
বিশেষভাবে উপযোগী:
- প্রকৌশল প্রতিষ্ঠান
• নির্মাণ কোম্পানি
• সফটওয়্যার কোম্পানি
• স্থাপত্য প্রতিষ্ঠান
• পরামর্শক প্রতিষ্ঠান
• পরিদর্শন সংস্থা
• বাণিজ্য সহায়তা প্রতিষ্ঠান
• সংগ্রহ কার্যক্রম অফিস
• উন্নয়ন প্রকল্প অফিস
শাখা অফিসের জন্য অনুমোদিত কার্যক্রম
কার্যক্রমের পরিধি বিডা অনুমোদনের ওপর নির্ভর করে। সাধারণভাবে একটি শাখা অফিস নিম্নোক্ত কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করতে পারে:
- পরামর্শক সেবা
• কারিগরি সহায়তা সেবা
• প্রকৌশল সেবা
• স্থাপত্য সেবা
• সংগ্রহ কার্যক্রম
• প্রকল্প বাস্তবায়ন
• বাজার উন্নয়ন কার্যক্রম
• চুক্তি ব্যবস্থাপনা
• গুণগত মান নিয়ন্ত্রণ ও পরিদর্শন
• স্থানীয় অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয়
বিডা কর্তৃক অনুমোদিত কার্যক্রম থেকে শাখা অফিস আয় করতে পারে। এ ধরনের আয় বাংলাদেশে করযোগ্য।
অনুমোদিত নয় এমন কার্যক্রম
বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জানা উচিত যে শাখা অফিসের কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। সাধারণত একটি শাখা অফিস:
- উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে না
• সীমাহীন স্থানীয় বাণিজ্যে অংশ নিতে পারে না
• অনুমোদিত কার্যপরিধির বাইরে কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে না
• বিডা অনুমোদন ছাড়া পরিচালিত হতে পারে না
• বিডার অতিরিক্ত অনুমোদন ছাড়া একাধিক অফিস স্থাপন করতে পারে না
যদি পরিকল্পিত ব্যবসায় উৎপাদন, আমদানি বিকল্প উৎপাদন, রপ্তানিমুখী উৎপাদন বা বৃহৎ পরিসরের বাণিজ্যিক কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত থাকে, তাহলে সম্পূর্ণ বিদেশি মালিকানাধীন কোম্পানি প্রতিষ্ঠা অধিক উপযোগী হতে পারে।
কেন বিডা অনুমোদন বাধ্যতামূলক?
বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (BIDA) হলো বিদেশি বিনিয়োগ সহজীকরণ ও নিয়ন্ত্রণের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান সরকারি সংস্থা। শাখা অফিস খোলার পূর্বে বিদেশি কোম্পানিকে বিডার One Stop Service (OSS) ব্যবস্থার মাধ্যমে পূর্বানুমোদন গ্রহণ করতে হয়।
বিডা অনুমোদন ছাড়া:
- শাখা অফিস আইনগতভাবে পরিচালিত হতে পারে না।
• কর্মঅনুমতি গ্রহণ করা যায় না।
• ব্যাংক হিসাব যথাযথভাবে সক্রিয় করা যায় না।
• কর নিবন্ধন জটিলতার সম্মুখীন হতে পারে।
শাখা অফিস প্রতিষ্ঠার যোগ্যতার শর্তাবলি
আবেদন করার পূর্বে বিদেশি কোম্পানিকে নিম্নোক্ত বিষয়সমূহ প্রদর্শন করতে হবে:
১. প্রকৃত ব্যবসায়িক উদ্দেশ্য
প্রস্তাবিত শাখা অফিসের একটি সুস্পষ্ট ব্যবসায়িক যৌক্তিকতা থাকতে হবে।
২. আর্থিক সক্ষমতা
মূল কোম্পানির বাংলাদেশে কার্যক্রম পরিচালনার জন্য পর্যাপ্ত আর্থিক সামর্থ্য থাকতে হবে।
৩. প্রতিষ্ঠিত কর্পোরেট অস্তিত্ব
মূল কোম্পানি তার নিজ দেশের আইনের অধীনে যথাযথভাবে নিবন্ধিত হতে হবে।
৪. দলিলপত্রের সত্যতা
বিডায় জমা দেওয়া সকল দলিল যথাযথভাবে সত্যায়িত ও বৈধকরণকৃত হতে হবে।
বিডা অনুমতির জন্য প্রয়োজনীয় দলিলপত্র
দলিলপত্র প্রস্তুত করাই সাধারণত পুরো প্রক্রিয়ার সবচেয়ে সময়সাপেক্ষ অংশ। সাধারণত বিডা নিম্নোক্ত দলিলপত্র চায়:
১. আবেদনপত্র
বিডা নির্ধারিত আবেদনপত্র যথাযথভাবে পূরণ করতে হবে।
২. নিবন্ধন সনদ
মূল কোম্পানির নিবন্ধন সনদের সত্যায়িত অনুলিপি।
৩. সংঘস্মারক ও সংঘবিধি
নিম্নোক্ত দলিলের সত্যায়িত অনুলিপি:
- সংঘস্মারক (MoA)
• সংঘবিধি (AoA)
যদি দলিলগুলো ইংরেজি ভাষায় না হয়, তবে সত্যায়িত ইংরেজি অনুবাদ জমা দিতে হবে।
৪. পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্ত
নিম্নোক্ত বিষয়ে অনুমোদনসহ পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্ত:
- বাংলাদেশে শাখা অফিস প্রতিষ্ঠা
• প্রস্তাবিত কার্যক্রম
• অনুমোদিত প্রতিনিধির নিয়োগ
এই দলিলটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
৫. নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী
সাধারণত পূর্ববর্তী দুই বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী।
এগুলো মূল কোম্পানির আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ হিসেবে কাজ করে।
৬. পরিচালকদের তালিকা
নিম্নোক্ত তথ্যসহ পরিচালকদের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ:
- নাম
• জাতীয়তা
• ঠিকানা
• পাসপোর্টের তথ্য
৭. শেয়ার মালিকানার তথ্য
বিদেশি কোম্পানির মালিকানা কাঠামোর বিস্তারিত বিবরণ।
৮. মূল কোম্পানির কার্যক্রমের বিবরণ
বিদ্যমান ব্যবসায়িক কার্যক্রমের বিস্তারিত ব্যাখ্যা।
৯. বাংলাদেশে প্রস্তাবিত কার্যক্রম
নিম্নোক্ত বিষয়সমূহ উল্লেখ করে বিস্তারিত ব্যবসায়িক পরিকল্পনা:
- কার্যপরিধি
• উদ্দেশ্য
• জনবল পরিকল্পনা
• প্রত্যাশিত ব্যবসায়িক কার্যক্রম
১০. অনুমোদনপত্র
আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য কোনো প্রতিনিধি বা পরামর্শককে নিয়োগ প্রদানকারী অনুমোদনপত্র।
১১. পাসপোর্টের অনুলিপি
পরিচালক বা অনুমোদিত স্বাক্ষরকারীদের পাসপোর্টের অনুলিপি।
১২. অফিস ঠিকানার তথ্য
বাংলাদেশে প্রস্তাবিত অফিসের ঠিকানা (যদি নির্ধারিত থাকে)।
সত্যায়ন সংক্রান্ত প্রয়োজনীয়তা
অনেক বিদেশি বিনিয়োগকারী দলিল যথাযথভাবে সত্যায়িত না হওয়ার কারণে বিলম্বের সম্মুখীন হন। সাধারণত দলিলপত্র নিম্নোক্ত কোনো প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সত্যায়িত হতে হবে:
- উৎস দেশের বাংলাদেশ দূতাবাস বা হাইকমিশন, অথবা
• উৎস দেশের শীর্ষ বাণিজ্য মণ্ডল, অথবা
• বাংলাদেশে উৎস দেশের দূতাবাস
যদি দলিল ইংরেজি ভাষায় না হয়:
- পেশাদার অনুবাদ প্রয়োজন হবে।
• অনুবাদ নোটারি দ্বারা সত্যায়িত হতে হবে।
দলিল যথাযথভাবে সত্যায়িত না করা বিলম্বের অন্যতম প্রধান কারণ।
বিডা অনুমতির জন্য সরকারি ফি
বর্তমানে শাখা অফিস, লিয়াজোঁ অফিস বা প্রতিনিধি অফিস অনুমোদনের জন্য সরকারি প্রক্রিয়াকরণ ফি সাধারণত ২৫,০০০ টাকা + ১৫% মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট)। সাধারণত বিডার অনুকূলে ব্যাংক পেমেন্ট অর্ডারের মাধ্যমে এই অর্থ পরিশোধ করতে হয়।
সরকারি ফির অতিরিক্ত হিসেবে কোম্পানিগুলোর নিম্নোক্ত ব্যয়ের জন্যও বাজেট রাখা উচিত:
- নোটারীকরণ ব্যয়
• দূতাবাস কর্তৃক সত্যায়ন ব্যয়
• অনুবাদ ব্যয়
• কুরিয়ার ব্যয়
• আইনগত পরামর্শ সেবা ফি
• কর্পোরেট সচিবালয় সেবা ফি
ধাপে ধাপে বিডা অনুমোদন প্রক্রিয়া
ধাপ ১: দলিলপত্র প্রস্তুতকরণ
প্রয়োজনীয় সকল দলিল সংগ্রহ ও সত্যায়িত করতে হবে।
এই ধাপে সাধারণত সময় লাগে:
- ২ থেকে ৬ সপ্তাহ
যা মূলত উৎস দেশের উপর নির্ভর করে।
ধাপ ২: বিডা ওয়ান স্টপ সার্ভিস (OSS) এর মাধ্যমে আবেদন দাখিল
বিডার ওয়ান স্টপ সার্ভিস প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে আবেদন জমা দিতে হয়।
আবেদনের অন্তর্ভুক্ত বিষয়সমূহ:
- অনলাইন আবেদন দাখিল
• দলিলপত্র আপলোড
• ফি পরিশোধ
ধাপ ৩: প্রাথমিক যাচাই
বিডার কর্মকর্তারা আবেদনপত্র পর্যালোচনা করেন।
তারা:
- ব্যাখ্যা চাইতে পারেন
• অতিরিক্ত তথ্য চাইতে পারেন
• সংশোধিত দলিলপত্র জমা দিতে বলতে পারেন
ধাপ ৪: আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটির পর্যালোচনা
আবেদনসমূহ একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি দ্বারা পর্যালোচিত হয়। সাধারণত এই কমিটি প্রতি মাসে দুইবার শাখা অফিসের আবেদন মূল্যায়নের জন্য সভা করে।
কমিটি নিম্নোক্ত বিষয়সমূহ মূল্যায়ন করে:
- ব্যবসায়িক যৌক্তিকতা
• অর্থনৈতিক অবদান
• প্রতিপালন অবস্থা
• নিরাপত্তা বিষয়ক বিবেচনা
ধাপ ৫: নিরাপত্তা ছাড়পত্র
সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলো নিরাপত্তা যাচাই সম্পন্ন করে।
এটি অনুমোদন প্রক্রিয়ার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
ধাপ ৬: অনুমোদনপত্র প্রদান
অনুমোদন সম্পন্ন হলে বিডা আনুষ্ঠানিক অনুমোদনপত্র প্রদান করে।
এই অনুমোদনপত্রই বাংলাদেশে শাখা অফিস প্রতিষ্ঠার প্রধান আইনগত অনুমতি হিসেবে কাজ করে।
বিডা অনুমোদন পেতে কত সময় লাগে?
বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সবচেয়ে সাধারণ প্রশ্নগুলোর একটি হলো:
বাংলাদেশে শাখা অফিসের জন্য বিডা অনুমোদন পেতে কত সময় লাগে?
উত্তর মূলত নিম্নোক্ত বিষয়গুলোর উপর নির্ভর করে:
- দলিলপত্রের পূর্ণতা
• মূল কোম্পানির উৎস দেশ
• দলিলপত্র সত্যায়নের গতি
• নিরাপত্তা যাচাই প্রক্রিয়া
• প্রস্তাবিত ব্যবসায়িক কার্যক্রমের জটিলতা
সাধারণ পরিস্থিতিতে:
| কার্যক্রম | আনুমানিক সময় |
| দলিলপত্র প্রস্তুতি | ২–৬ সপ্তাহ |
| সত্যায়ন ও দূতাবাস প্রত্যয়ন | ১–৪ সপ্তাহ |
| বিডা আবেদন দাখিল | ১–৩ দিন |
| বিডা পর্যালোচনা ও ব্যাখ্যা প্রদান | ২–৪ সপ্তাহ |
| নিরাপত্তা ছাড়পত্র | ২–৮ সপ্তাহ |
| চূড়ান্ত অনুমোদন | ১–২ সপ্তাহ |
বাস্তবে অধিকাংশ আবেদন ৬ থেকে ১২ সপ্তাহের মধ্যে সম্পন্ন হয়। অসম্পূর্ণ দলিলপত্রযুক্ত আবেদন সম্পন্ন হতে উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি সময় লাগে।
বিডা অনুমোদনের মেয়াদ
শাখা অফিসের অনুমোদন সাধারণত নির্দিষ্ট সময়ের জন্য প্রদান করা হয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে বিডা অনুমোদন প্রদান করে:
তিন (৩) বছরের জন্য
তবে মেয়াদ নিম্নোক্ত বিষয়গুলোর উপর নির্ভর করে পরিবর্তিত হতে পারে:
- ব্যবসায়িক কার্যক্রমের প্রকৃতি
• চুক্তির মেয়াদ
• প্রকল্পের মেয়াদ
• পর্যালোচনাকারী কর্তৃপক্ষের সুপারিশ
অনুমোদনের মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্বেই শাখা অফিসকে নবায়নের জন্য আবেদন করতে হবে।
সময়মতো নবায়ন না করলে গুরুতর প্রতিপালন সংক্রান্ত জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে।
বিডা অনুমোদন পাওয়ার পর কী করতে হবে?
অনেক বিনিয়োগকারী ভুলভাবে মনে করেন যে বিডা অনুমোদন পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তারা কার্যক্রম শুরু করতে পারবেন।
বাস্তবে বিডা অনুমোদন কেবলমাত্র শুরু।
এরপর আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নিবন্ধন ও প্রতিপালন সংক্রান্ত কাজ সম্পন্ন করতে হয়।
ধাপ ১: বাংলাদেশে ব্যাংক হিসাব খোলা
বিডা অনুমোদন পাওয়ার পর শাখা অফিসকে বাংলাদেশের একটি অনুমোদিত বাণিজ্যিক ব্যাংকে হিসাব খুলতে হবে।
সাধারণত ব্যবহৃত ব্যাংকসমূহ:
- এইচএসবিসি ব্যাংক
• স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক
• ইস্টার্ন ব্যাংক পিএলসি
• ব্র্যাক ব্যাংক পিএলসি
• সিটি ব্যাংক পিএলসি
ব্যাংক সাধারণত নিম্নোক্ত দলিলপত্র চাইবে:
- বিডা অনুমোদনপত্র
• মূল কোম্পানির দলিলপত্র
• অনুমোদিত স্বাক্ষরকারীর তথ্য
• পাসপোর্টের অনুলিপি
• কর নিবন্ধনের দলিলপত্র
• অফিস ঠিকানার দলিলপত্র
ধাপ ২: প্রাথমিক বৈদেশিক অর্থ প্রেরণ
মূল কোম্পানিকে আনুষ্ঠানিক ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে বিদেশ থেকে পরিচালন ব্যয় নির্বাহের অর্থ বাংলাদেশে পাঠাতে হবে।
এই অর্থ ব্যবহার করা যেতে পারে:
- অফিস ভাড়া
• বেতন
• বিদ্যুৎ, পানি ও অন্যান্য সেবা ব্যয়
• যন্ত্রপাতি ক্রয়
• পরিচালন ব্যয়
অর্থের উৎস যথাযথভাবে নথিভুক্ত থাকতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক বৈদেশিক অর্থ আগমন নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে। তাই সকল লেনদেন স্বচ্ছ এবং যথাযথভাবে নথিভুক্ত হওয়া আবশ্যক।
ধাপ ৩: করদাতা শনাক্তকরণ নম্বর (TIN) গ্রহণ
শাখা অফিসকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড থেকে করদাতা শনাক্তকরণ নম্বর গ্রহণ করতে হবে।
TIN প্রয়োজন হবে:
- কর দাখিলের জন্য
• ব্যাংকিং লেনদেনের জন্য
• চুক্তি সম্পাদনের জন্য
• সরকারি প্রতিপালনের জন্য
TIN ছাড়া স্বাভাবিক ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়ে।
ধাপ ৪: মূল্য সংযোজন কর নিবন্ধন (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে)
কার্যক্রমের প্রকৃতির উপর নির্ভর করে মূল্য সংযোজন কর নিবন্ধনের প্রয়োজন হতে পারে।
সেবাভিত্তিক শাখা অফিসগুলোর প্রায়ই প্রয়োজন হয়:
- ব্যবসা শনাক্তকরণ নম্বর (BIN)
• মূল্য সংযোজন কর নিবন্ধন
নির্দিষ্ট ব্যবসায়িক কার্যক্রম অনুযায়ী বিষয়টি সতর্কতার সঙ্গে মূল্যায়ন করা উচিত।
ধাপ ৫: ট্রেড লাইসেন্স
শাখা অফিসকে সংশ্লিষ্ট সিটি কর্পোরেশন বা পৌরসভা থেকে ট্রেড লাইসেন্স গ্রহণ করতে হবে।
উদাহরণস্বরূপ:
- ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন
• ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন
ট্রেড লাইসেন্স প্রতি বছর নবায়ন করতে হয়।
ধাপ ৬: অফিস স্থাপন ও জনবল নিয়োগ
নিয়ন্ত্রক সংক্রান্ত সকল কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর শাখা অফিস নিম্নোক্ত কার্যক্রম শুরু করতে পারে:
- অফিস ভাড়া গ্রহণ
• স্থানীয় কর্মী নিয়োগ
• যন্ত্রপাতি ক্রয়
• অনুমোদিত ব্যবসায়িক কার্যক্রম শুরু
সকল কর্মসংস্থান কার্যক্রম বাংলাদেশ শ্রম আইন অনুযায়ী পরিচালিত হতে হবে।
বিদেশি কর্মী নিয়োগ
অনেক বিদেশি কোম্পানি তাদের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রবাসী বা বিদেশি পেশাজীবী নিয়োগ করতে চায়। বাংলাদেশে বিদেশি নাগরিক আইনগতভাবে কাজ করতে পারবেন না যদি না তারা নিম্নোক্ত অনুমোদন গ্রহণ করেন:
- কর্মঅনুমতি
• চাকরি ভিসা
• প্রয়োজনীয় অভিবাসন অনুমোদন
কর্মঅনুমতির জন্য প্রয়োজনীয়তা
সাধারণত নিম্নোক্ত দলিলপত্র প্রয়োজন হয়:
নিয়োগকর্তার জন্য
- বিডা অনুমোদনপত্র
• সাংগঠনিক কাঠামো
• বিদেশি কর্মী নিয়োগের যৌক্তিকতা
• স্থানীয় ও বিদেশি কর্মীর অনুপাত
কর্মীর জন্য
- পাসপোর্ট
• জীবনবৃত্তান্ত
• শিক্ষাগত সনদপত্র
• অভিজ্ঞতার সনদপত্র
• চাকরির চুক্তিপত্র
বিদেশি বিশেষজ্ঞের প্রয়োজনীয়তা পর্যালোচনা করার পর বিডা সাধারণত কর্মঅনুমতির আবেদন প্রক্রিয়াকরণ করে।
বার্ষিক প্রতিপালন সংক্রান্ত বাধ্যবাধকতা
বিদেশি বিনিয়োগকারীদের অবশ্যই বুঝতে হবে যে শাখা অফিসের সমগ্র কার্যকাল জুড়ে বিভিন্ন প্রতিপালন সংক্রান্ত বাধ্যবাধকতা অব্যাহত থাকে। গুরুত্বপূর্ণ বার্ষিক বাধ্যবাধকতাগুলোর মধ্যে রয়েছে:
১) বার্ষিক নিরীক্ষা
শাখা অফিসকে প্রতি বছর নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী প্রস্তুত করতে হবে।
২) আয়কর রিটার্ন দাখিল
নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে বার্ষিক আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে হবে।
৩) মূল্য সংযোজন কর প্রতিপালন
প্রযোজ্য ক্ষেত্রে নিয়মিতভাবে মূল্য সংযোজন কর রিটার্ন দাখিল করতে হবে।
৪) লাইসেন্স নবায়ন
নিম্নোক্ত অনুমোদন ও লাইসেন্সসমূহ সময়মতো নবায়ন করতে হবে:
- ট্রেড লাইসেন্স
• শাখা অফিস অনুমোদন
• কর্মঅনুমতি
৫) বাংলাদেশ ব্যাংকে প্রতিবেদন প্রদান
কিছু বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকে প্রতিবেদন প্রদান বাধ্যতামূলক।
প্রতিপালন না করলে জরিমানা এবং নিয়ন্ত্রক জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে।
শাখা অফিস অনুমোদনের নবায়ন
প্রাথমিক অনুমোদনের ভিত্তিতে একটি শাখা অফিস অনির্দিষ্টকাল পরিচালিত হতে পারে না। সাধারণত অনুমোদনের মেয়াদ শেষ হওয়ার কয়েক মাস পূর্বেই নবায়ন প্রক্রিয়া শুরু করা উচিত।
সাধারণত নিম্নোক্ত দলিলপত্র প্রয়োজন হয়:
- নবায়ন আবেদনপত্র
• নিরীক্ষিত হিসাব বিবরণী
• কার্যক্রম প্রতিবেদন
• কর প্রতিপালন সনদপত্র
• হালনাগাদ কর্পোরেট দলিলপত্র
• কার্যক্রম অব্যাহত রাখার যৌক্তিকতা
সময়মতো নবায়নের উদ্যোগ ব্যবসায়িক কার্যক্রমে বিঘ্ন সৃষ্টি হওয়া প্রতিরোধ করে।
বাংলাদেশে শাখা অফিস প্রতিষ্ঠার আনুমানিক ব্যয়
প্রকৃত ব্যয় মূল কোম্পানির উৎস দেশ এবং ব্যবসার জটিলতার উপর নির্ভর করে উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তিত হতে পারে। তবে বিনিয়োগকারীরা নিম্নোক্ত আনুমানিক বাজেট বিবেচনা করতে পারেন:
| খাত | আনুমানিক ব্যয় |
| বিডা সরকারি ফি | ২৫,০০০ টাকা |
| দলিলপত্র নোটারীকরণ | ২০,০০০ – ১,০০,০০০ টাকা |
| দূতাবাস কর্তৃক সত্যায়ন | ৩০,০০০ – ১,৫০,০০০ টাকা |
| অনুবাদ ব্যয় | ১০,০০০ – ৫০,০০০ টাকা |
| আইনগত পরামর্শ সেবা | ১,০০,০০০ – ৫,০০,০০০ টাকা বা তারও বেশি |
| ট্রেড লাইসেন্স | ৫,০০০ – ৫০,০০০ টাকা |
| কর নিবন্ধন | অতি সামান্য |
| অফিস স্থাপন | পরিবর্তনশীল |
| কর্মঅনুমতি প্রক্রিয়াকরণ | পরিবর্তনশীল |
অপ্রত্যাশিত দলিলপত্র ও প্রতিপালন সংক্রান্ত ব্যয়ের জন্য অতিরিক্ত তহবিল সংরক্ষণ করা উচিত।
বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সাধারণ ভুলসমূহ
অনেক শাখা অফিস আবেদন এমন কিছু ভুলের কারণে বিলম্বিত হয়, যা সহজেই এড়ানো সম্ভব।
অসম্পূর্ণ দলিলপত্র
প্রয়োজনীয় দলিলপত্রের ঘাটতি এখনো সবচেয়ে সাধারণ সমস্যা।
ভুল বা অসম্পূর্ণ সত্যায়ন
দলিলপত্র যথাযথভাবে নোটারীকরণ ও সত্যায়িত হতে হবে।
অস্পষ্ট ব্যবসায়িক কার্যক্রম
আবেদনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে:
- উদ্দেশ্য
• কার্যপরিধি
• প্রত্যাশিত ফলাফল
মূল কোম্পানি ও শাখা অফিসের কার্যক্রমের মধ্যে অসামঞ্জস্য
বাংলাদেশে প্রস্তাবিত কার্যক্রম মূল কোম্পানির বিদ্যমান ব্যবসার সঙ্গে যৌক্তিকভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে।
অপর্যাপ্ত আর্থিক প্রমাণ
বিডা প্রত্যাশা করে যে মূল কোম্পানির যথেষ্ট আর্থিক সক্ষমতা রয়েছে, তার যথাযথ প্রমাণ উপস্থাপন করা হবে।
বিলম্বিত জবাব প্রদান
বিডার জিজ্ঞাসার দ্রুত উত্তর না দিলে অনুমোদন প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হয়।
সফল অনুমোদনের জন্য বাস্তবধর্মী পরামর্শ
১) অভিজ্ঞ পরামর্শকের সহায়তা নিন
অভিজ্ঞ পরামর্শক প্রক্রিয়াগত বিলম্ব ও ভুল উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দিতে পারেন।
২) বিস্তারিত ব্যবসায়িক বিবরণ প্রস্তুত করুন
স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করুন:
- কেন বাংলাদেশ?
• কেন শাখা অফিস?
• প্রত্যাশিত অর্থনৈতিক অবদান কী?
• কতজন কর্মী নিয়োগ করা হবে?
৩) সকল দলিলপত্রে সামঞ্জস্য বজায় রাখুন
সকল দলিলে একই তথ্য থাকতে হবে:
- কোম্পানির নাম
• ঠিকানা
• পরিচালকবৃন্দ
• ব্যবসায়িক কার্যক্রম
৪) সত্যায়ন প্রক্রিয়া আগেভাগে শুরু করুন
দূতাবাস কর্তৃক প্রত্যয়ন প্রক্রিয়া প্রায়ই প্রত্যাশার চেয়ে বেশি সময় নেয়।
৫) স্বচ্ছ আর্থিক রেকর্ড সংরক্ষণ করুন
আর্থিক বিশ্বাসযোগ্যতা আবেদনকে অনেক বেশি শক্তিশালী করে।
৬) ডিজিটাল ও মুদ্রিত উভয় কপি সংরক্ষণ করুন
ভবিষ্যৎ নবায়ন ও নিরীক্ষার জন্য সকল দলিল সুশৃঙ্খলভাবে সংরক্ষণ করুন।
কখন শাখা অফিসের পরিবর্তে সহায়ক কোম্পানি প্রতিষ্ঠা বিবেচনা করবেন?
সব সময় শাখা অফিসই সর্বোত্তম কাঠামো নয়। নিম্নোক্ত পরিস্থিতিতে সম্পূর্ণ বিদেশি মালিকানাধীন কোম্পানি অধিক উপযোগী হতে পারে:
- উৎপাদন কার্যক্রম পরিকল্পিত হলে
• ব্যাপক স্থানীয় বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা থাকলে
• দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ পরিকল্পনা থাকলে
• বৃহৎ স্থানীয় কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা থাকলে
• স্বাধীন আইনগত সত্তা প্রয়োজন হলে
প্রারম্ভিক পর্যায়েই সঠিক কাঠামো নির্বাচন করলে ভবিষ্যতে উল্লেখযোগ্য সময় ও ব্যয় সাশ্রয় করা যায়।
বাংলাদেশে শাখা অফিস প্রতিষ্ঠার চেকলিস্ট
বিডায় আবেদন করার পূর্বে নিশ্চিত করুন যে আপনার কাছে নিম্নোক্ত দলিলপত্র রয়েছে:
✓ নিবন্ধন সনদ
✓ সংঘস্মারক ও সংঘবিধি
✓ পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্ত
✓ নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী
✓ পরিচালকদের তালিকা
✓ শেয়ার মালিকানার তথ্য
✓ পাসপোর্টের অনুলিপি
✓ প্রস্তাবিত ব্যবসায়িক কার্যক্রমের বিবরণ
✓ অনুমোদনপত্র
✓ অফিস ঠিকানার তথ্য
✓ নোটারীকরণ
✓ দূতাবাস কর্তৃক সত্যায়ন
✓ ইংরেজি অনুবাদ (প্রয়োজন হলে)
✓ সরকারি ফি পরিশোধ
✓ বিডা ওয়ান স্টপ সার্ভিস (OSS) এর মাধ্যমে আবেদন দাখিল
উপসংহার
এশিয়ার দ্রুততম বর্ধনশীল অর্থনীতিগুলোর একটিতে প্রবেশের লক্ষ্যে বিদেশি কোম্পানিগুলোর আগ্রহ ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। অনেক প্রতিষ্ঠানের জন্য শাখা অফিস প্রতিষ্ঠা বাংলাদেশের বাজারে প্রবেশের একটি কার্যকর ও বাস্তবসম্মত উপায়, যা তাদেরকে মূল কোম্পানির সরাসরি নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার সুযোগ দেয়।
তবে সমগ্র প্রক্রিয়ার মূল ভিত্তি হলো বিডা অনুমোদন। দলিলপত্র যথাযথভাবে প্রস্তুত করা, সঠিকভাবে সত্যায়ন সম্পন্ন করা, ব্যবসায়িক যৌক্তিকতা স্পষ্টভাবে উপস্থাপন করা এবং সকল নিয়ন্ত্রক প্রয়োজনীয়তা কঠোরভাবে অনুসরণ করা একটি সফল আবেদনের জন্য অপরিহার্য।
যেসব বিদেশি বিনিয়োগকারী অনুমোদন প্রক্রিয়া সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা রাখেন, যথাযথ বাজেট পরিকল্পনা করেন, পূর্ণাঙ্গ দলিলপত্র প্রস্তুত করেন এবং ধারাবাহিকভাবে প্রতিপালন বজায় রাখেন, তারা তুলনামূলকভাবে সহজে তাদের শাখা অফিস প্রতিষ্ঠা করতে পারেন এবং বাংলাদেশের বিশাল ব্যবসায়িক সম্ভাবনা থেকে দীর্ঘমেয়াদে লাভবান হতে পারেন।
বাংলাদেশে শাখা অফিস প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা রয়েছে এমন কোম্পানিগুলোর জন্য পেশাদার পরামর্শ গ্রহণ ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করতে পারে, অনুমোদনের সময়সীমা কমাতে পারে এবং বিডা, বাংলাদেশ ব্যাংক, কর কর্তৃপক্ষ ও অন্যান্য নিয়ন্ত্রক সংস্থার সকল প্রয়োজনীয়তা যথাযথভাবে অনুসরণ নিশ্চিত করতে পারে।
আজকের একটি সুপরিকল্পিত বাজারে প্রবেশ কৌশল আগামী দিনের বাংলাদেশে দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসায়িক সাফল্যের ভিত্তি হয়ে উঠতে পারে।