বাংলাদেশ ট্রেড এক্সিবিশন

বাংলাদেশ ট্রেড এক্সিবিশন

 

মোঃ জয়নাল আব্দীন
প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট বাংলাদেশ (T&IB)
নির্বাহী পরিচালক, অনলাইন ট্রেনিং একাডেমি (OTA)
মহাসচিব, ব্রাজিল–বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (BBCCI)

 

বাংলাদেশের ট্রেড এক্সিবিশনগুলো এখন আর শুধু নির্দিষ্ট সময়ে আয়োজিত পণ্য প্রদর্শনীতে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এগুলো বিকশিত হয়ে সারা বছরব্যাপী কার্যকর বাণিজ্যিক প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে, যেখানে স্থানীয় উৎপাদকদের সঙ্গে বৈশ্বিক ক্রেতা, বিনিয়োগকারী, লজিস্টিকস অংশীদার, প্রযুক্তি সরবরাহকারী এবং সোর্সিং এজেন্টদের সরাসরি সংযোগ স্থাপিত হয়।

 

এর গুরুত্ব আরও বেড়ে যায় এই কারণে যে বাংলাদেশ আর কেবলমাত্র একটি উৎপাদনভিত্তিক দেশ হিসেবে পরিচিত নয় বরং এটি দ্রুত একটি বহুমুখী ও বৈচিত্র্যময় রপ্তানিনির্ভর অর্থনীতিতে রূপান্তরিত হচ্ছে।

 

২০২৪–২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট রপ্তানি আয় প্রায় ৪৮.২৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার-এ পৌঁছায়, যার মধ্যে তৈরি পোশাক (RMG) খাত এককভাবে প্রায় ৩৯.৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করে, যা মোট রপ্তানির প্রায় ৮১.৪৯ শতাংশ

 

একই সময়ে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, কৃষি ও কৃষিপ্রক্রিয়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত দ্রব্য, ওষুধ শিল্প, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, আইসিটি ও আইটিইএস সেবা এবং প্যাকেজিং শিল্পও আন্তর্জাতিক বাজারে ধীরে ধীরে শক্ত অবস্থান তৈরি করছে।

 

এই প্রেক্ষাপটে ঢাকা ও অন্যান্য বাণিজ্যিক নগরীতে অনুষ্ঠিত ট্রেড এক্সিবিশনগুলো কার্যত একটি “সংক্ষিপ্ত বাজার” হিসেবে কাজ করে, যেখানে মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই প্রতিযোগী বিশ্লেষণ, মান ও কমপ্লায়েন্স যাচাই, যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তির তুলনা, ডিস্ট্রিবিউটর ও এজেন্টের সঙ্গে সাক্ষাৎ, সরবরাহকারী বাছাই, মূল্য আলোচনা এবং এমনকি রপ্তানি চালানের সূচনাও সম্ভব হয়।

 

বাংলাদেশে সম্প্রতি গড়ে ওঠা আধুনিক ও বৃহৎ প্রদর্শনী অবকাঠামো বিশেষ করে পূর্বাচলের বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ–চীন মৈত্রী প্রদর্শনী কেন্দ্র (BBCFEC) এবং ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরা (ICCB) দেশকে আন্তর্জাতিক মানের সেক্টরভিত্তিক মেগা ট্রেড এক্সিবিশন আয়োজনের সক্ষমতা প্রদান করেছে।

 

এই প্রবন্ধে বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত সবচেয়ে বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ দশটি ট্রেড এক্সিবিশনের বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে, পাশাপাশি দেশের বাইরে আয়োজিত বাংলাদেশ-ব্র্যান্ডেড প্রদর্শনী, যেমন ব্রাজিলে আয়োজিত “মেইড ইন বাংলাদেশ এক্সপো”, এর কৌশলগত গুরুত্বও ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

 

কেন বাংলাদেশে ট্রেড এক্সিবিশন প্রদর্শক ক্রেতাদের জন্য উচ্চ রিটার্ন নিশ্চিত করে

প্রদর্শকদের জন্য বাংলাদেশে আয়োজিত ট্রেড এক্সিবিশনগুলো গ্রাহক অর্জনের ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনে, কারণ একই ভেন্যুতে শত শত যোগ্য সিদ্ধান্তগ্রহণকারী, আমদানিকারক ও ক্রেতার উপস্থিতি নিশ্চিত হয়।

 

এই প্রদর্শনীগুলোতে অংশগ্রহণের মাধ্যমে পণ্য ও বাজারের উপযোগিতা, প্যাকেজিং ও লেবেলিংয়ের আন্তর্জাতিক চাহিদা, প্রয়োজনীয় কমপ্লায়েন্স ডকুমেন্টেশন, ন্যূনতম অর্ডার পরিমাণ, ডেলিভারি সময়সীমা এবং সার্টিফিকেশন সংক্রান্ত বিষয়গুলো সম্পর্কে দ্রুত ও বাস্তব প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়।

 

অন্যদিকে, আমদানিকারক ও সোর্সিং বায়ারদের জন্য ট্রেড এক্সিবিশনগুলো ঝুঁকি কমানোর একটি কার্যকর মাধ্যম, কারণ এখানে সরাসরি কারখানা সক্ষমতা নিয়ে আলোচনা, মান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা যাচাই, পণ্যের স্যাম্পল মূল্যায়ন এবং একাধিক বিকল্প সরবরাহকারীর তুলনা একসঙ্গে করা সম্ভব হয়।

 

আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বাংলাদেশে আয়োজিত আধুনিক ট্রেড এক্সিবিশনগুলো এখন আর কেবল একক পণ্য বা একটি শিল্পকে ঘিরে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এগুলো পুরো সাপ্লাই-চেইন ইকোসিস্টেমকে কেন্দ্র করে আয়োজিত হয়।

 

এর ফলে একজন আন্তর্জাতিক সোর্সিং ভিজিটর একই স্থানে কাঁচামাল সরবরাহকারী, অ্যাকসেসরিজ প্রস্তুতকারক, প্যাকেজিং কোম্পানি, যন্ত্রপাতি সরবরাহকারী, ফ্রেইট ফরোয়ার্ডার, ব্যাংক, বীমা প্রতিষ্ঠান এবং সার্টিফিকেশন সংস্থার সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ করতে পারেন, যা পুরো বাণিজ্যিক লেনদেন প্রক্রিয়াকে দ্রুত ও কার্যকর করে তোলে।

 

শিল্পখাতকে রূপ দিচ্ছে যে দুটি প্রধান প্রদর্শনী কেন্দ্র

বাংলাদেশের ট্রেড এক্সিবিশন ক্যালেন্ডার বর্তমানে মূলত দুটি প্রধান ভেন্যুকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হচ্ছে।

 

পূর্বাচলের বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ–চীন মৈত্রী প্রদর্শনী কেন্দ্র (BBCFEC) হলো বাংলাদেশের প্রথম ও বৃহত্তম আন্তর্জাতিক মানের প্রদর্শনী কমপ্লেক্স, যেখানে জাতীয় ফ্ল্যাগশিপ মেলা, রপ্তানিমুখী প্রদর্শনী এবং আন্তর্জাতিক শিল্পভিত্তিক এক্সিবিশন নিয়মিত আয়োজিত হয়।

 

অন্যদিকে, ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরা (ICCB), ঢাকা, এখনো দেশের সবচেয়ে ব্যস্ত ও বহুমুখী বেসরকারি এক্সিবিশন হাব হিসেবে পরিচিত, যেখানে নির্মাণ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, টেক্সটাইল মেশিনারি, প্লাস্টিক ও প্যাকেজিং, চামড়া, খাদ্য ও কৃষি, ডেনিম, আইসিটি এবং অন্যান্য খাতের প্রদর্শনী সারা বছর অনুষ্ঠিত হয়।

বাংলাদেশ ট্রেড এক্সিবিশন
বাংলাদেশ ট্রেড এক্সিবিশন

বাংলাদেশে আয়োজিত শীর্ষ ১০টি ট্রেড এক্সিবিশন

১) ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা (DITF)

ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা বাংলাদেশের সবচেয়ে পরিচিত ও বহুখাতভিত্তিক ফ্ল্যাগশিপ ট্রেড এক্সিবিশন, যা ভোক্তা ব্র্যান্ড, শিল্প সরবরাহকারী, এসএমই, স্টার্টআপ এবং বিদেশি দেশীয় প্যাভিলিয়নের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বাজার প্রবেশদ্বার হিসেবে কাজ করে।

 

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই মেলা পূর্বাচলের বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ–চীন মৈত্রী প্রদর্শনী কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যা মেলার ব্যাপ্তি, আধুনিকতা ও জাতীয় গুরুত্বকে প্রতিফলিত করে।

 

উদাহরণস্বরূপ, ৩০তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে পূর্বাচলের এই প্রদর্শনী কেন্দ্রে শুরু হওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

 

এই মেলায় ভোক্তা পণ্য, খাদ্যদ্রব্য, ইলেকট্রনিক্স, নির্মাণ সামগ্রী, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্য, হস্তশিল্প, তৈরি পোশাক, চামড়াজাত পণ্য, প্লাস্টিক ও বিভিন্ন সেবা খাতের প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করে।

 

বিদেশি প্রদর্শকদের জন্য এটি বাংলাদেশে ডিস্ট্রিবিউটর ও এজেন্ট খোঁজার একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম, আর দেশীয় উদ্যোক্তা ও রপ্তানিকারকদের জন্য এটি ব্র্যান্ডিং, বাজার যাচাই এবং প্রাতিষ্ঠানিক ও পাইকারি ক্রেতা আকর্ষণের একটি শক্তিশালী মাধ্যম।

 

২) গ্লোবাল সোর্সিং এক্সপো (ঢাকা) – এক্সপোর্ট প্রমোশন ব্যুরো (EPB)

গ্লোবাল সোর্সিং এক্সপো–ঢাকা একটি লক্ষ্যভিত্তিক ও রপ্তানিমুখী সোর্সিং প্ল্যাটফর্ম, যা সাধারণ ভোক্তামুখী মেলার পরিবর্তে আন্তর্জাতিক ক্রেতা ও সোর্সিং হাউসের জন্য বিশেষভাবে নকশা করা হয়েছে।

 

এই প্রদর্শনীটি এক্সপোর্ট প্রমোশন ব্যুরো (EPB) কর্তৃক আয়োজিত এবং পূর্বাচলের বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ–চীন মৈত্রী প্রদর্শনী কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হয়।

 

এখানে তৈরি পোশাক, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, পাটজাত পণ্য, কৃষিপ্রক্রিয়াজাত খাদ্য, আইসিটি ও আইটিইএস সেবা—এই ধরনের রপ্তানিযোগ্য খাতগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়।

 

এই এক্সপোর একটি বড় বৈশিষ্ট্য হলো পরিকল্পিত বিজনেস ম্যাচমেকিং ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে বিদেশি বায়ার ও দেশীয় রপ্তানিকারকদের মধ্যে সরাসরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

 

সাম্প্রতিক এক আয়োজনে এই এক্সপোতে ১২৫টিরও বেশি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণে প্রায় ১৬৫টি স্টল স্থাপিত হয়েছিল, যা এর ব্যাপ্তি ও গুরুত্বকে স্পষ্ট করে।

 

৩) ডিটিজি – ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল টেক্সটাইল ও গার্মেন্টস মেশিনারি এক্সিবিশন

ডিটিজি বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিল্প প্রদর্শনী, কারণ এটি দেশের বৃহত্তম রপ্তানি খাত টেক্সটাইল ও গার্মেন্টস শিল্পের প্রযুক্তিগত মেরুদণ্ডকে কেন্দ্র করে আয়োজিত হয়।

 

এই প্রদর্শনীতে টেক্সটাইল ও গার্মেন্টস মেশিনারি, অটোমেশন সল্যুশন, ডাইস ও কেমিক্যালস, প্রসেসিং ও ফিনিশিং প্রযুক্তি, শক্তি-দক্ষ যন্ত্রপাতি এবং উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধির আধুনিক সমাধান প্রদর্শিত হয়।

 

এটি সাধারণত ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরা (ICCB), ঢাকা-তে অনুষ্ঠিত হয় এবং দেশি-বিদেশি মিল মালিক, কারখানা ব্যবস্থাপক, প্রকৌশলী ও প্রযুক্তি সরবরাহকারীদের মিলনস্থল হিসেবে কাজ করে।

 

৪) বিল্ড বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল এক্সপো

বিল্ড বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল এক্সপো হলো বাংলাদেশের শীর্ষ নির্মাণ ও বিল্ডিং মেটেরিয়াল বিষয়ক ট্রেড এক্সিবিশন, যা দেশের অবকাঠামো, রিয়েল এস্টেট এবং শিল্প নির্মাণ খাতের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত।

 

এই এক্সপো সাধারণত ICCB, ঢাকা-তে অনুষ্ঠিত হয় এবং এখানে নির্মাণ যন্ত্রপাতি, বিল্ডিং ও ফিনিশিং ম্যাটেরিয়াল, ইন্টেরিয়র ও এক্সটেরিয়র সল্যুশন, সেফটি সিস্টেম এবং প্রকৌশল ও কনসালটিং সেবা প্রদর্শিত হয়।

 

বিদেশি প্রদর্শকদের জন্য এটি বাংলাদেশের দ্রুত বর্ধনশীল নির্মাণ বাজারে প্রবেশের সুযোগ তৈরি করে, আর দেশীয় আমদানিকারকদের জন্য নতুন আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড ও প্রযুক্তির সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের পথ খুলে দেয়।

 

৫) সোলার বাংলাদেশ এক্সপো ও বিদ্যুৎ–জ্বালানি খাতভিত্তিক প্রদর্শনী

বাংলাদেশে বিদ্যুৎ চাহিদা বৃদ্ধি ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির ওপর গুরুত্ব আরোপের ফলে সোলার বাংলাদেশ এক্সপোসহ বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতভিত্তিক ট্রেড এক্সিবিশনগুলোর গুরুত্ব দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে।

 

এই প্রদর্শনীগুলো সাধারণত ICCB, ঢাকা-তে অনুষ্ঠিত হয় এবং সৌর প্যানেল, ইনভার্টার, ব্যাটারি, এনার্জি স্টোরেজ সিস্টেম, সোলার লাইটিং, অফ-গ্রিড ও রুরাল এনার্জি সল্যুশন, এবং ইপিসি ও এনার্জি সার্ভিস কোম্পানির সেবা প্রদর্শন করে।

 

বিদেশি প্রযুক্তি সরবরাহকারীদের জন্য এসব এক্সপো স্থানীয় ডিস্ট্রিবিউটর ও প্রকল্পভিত্তিক অংশীদার খোঁজার একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম।

 

৬) আইপিএফ বাংলাদেশ – ইন্টারন্যাশনাল প্লাস্টিকস, প্রিন্টিং ও প্যাকেজিং ইন্ডাস্ট্রি ফেয়ার

আইপিএফ বাংলাদেশ বাংলাদেশের উৎপাদন ও রপ্তানিনির্ভর শিল্পের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ট্রেড এক্সিবিশন, কারণ প্লাস্টিক, প্রিন্টিং ও প্যাকেজিং শিল্প প্রায় সব রপ্তানি খাতের সঙ্গে সরাসরি জড়িত।

 

এই এক্সপোটি ICCB, ঢাকা-তে অনুষ্ঠিত হয় এবং এখানে প্লাস্টিক মেশিনারি, কাঁচামাল, প্রিন্টিং সিস্টেম, প্যাকেজিং প্রযুক্তি, লেবেলিং সল্যুশন এবং টেকসই ও পরিবেশবান্ধব প্যাকেজিং বিকল্প প্রদর্শিত হয়।

 

রপ্তানিকারকদের জন্য এই প্রদর্শনী আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন প্যাকেজিং উন্নয়নের সুযোগ সৃষ্টি করে, আর বিদেশি যন্ত্রপাতি সরবরাহকারীদের জন্য এটি বাংলাদেশের দ্রুত আধুনিকায়নশীল শিল্পবাজারে প্রবেশের কার্যকর মাধ্যম।

 

৭) বাংলাদেশ ডেনিম এক্সপো

বাংলাদেশ ডেনিম এক্সপো একটি বিশেষায়িত ট্রেড প্ল্যাটফর্ম, যা ডেনিম ও জিন্সওয়্যার সাপ্লাই চেইনের জন্য নিবেদিত এবং টেকসই উৎপাদন, উদ্ভাবন ও দায়িত্বশীল সোর্সিংকে বিশেষ গুরুত্ব দেয়।

 

এই এক্সপো সাধারণত ICCB, ঢাকা-তে অনুষ্ঠিত হয় এবং এতে ডেনিম মিল, গার্মেন্টস প্রস্তুতকারক, ওয়াশিং ও ফিনিশিং প্রযুক্তি, ট্রিমস ও সাপ্লাই-চেইন সেবা প্রদানকারীরা অংশগ্রহণ করে।

 

আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড ও বায়ারদের জন্য এটি টেকসই ডেনিম সোর্সিং পার্টনার খোঁজার একটি গুরুত্বপূর্ণ ভেন্যু।

 

৮) ডেনিম বাংলাদেশ (CEMS)

ডেনিম বাংলাদেশ একটি ট্রেড ভিজিটর-কেন্দ্রিক প্রদর্শনী, যা সাধারণত ICCB, ঢাকা-তে অনুষ্ঠিত হয় এবং ডেনিম শিল্পের বাণিজ্যিক দিককে অগ্রাধিকার দেয়।

 

এখানে ডেনিম ফ্যাব্রিক, তৈরি পোশাক, অ্যাকসেসরিজ, ডাইস ও কেমিক্যালস, এবং সংশ্লিষ্ট সাপ্লাই-চেইন সেবা প্রদর্শিত হয়।

 

এই প্রদর্শনী আন্তর্জাতিক ডেনিম ব্র্যান্ড ও দেশীয় প্রস্তুতকারকদের মধ্যে সরাসরি বাণিজ্যিক যোগাযোগ স্থাপনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

 

consultant
consultant

 

৯) বাংলাদেশ লেদার অ্যান্ড ফুটওয়্যার এক্সপো

বাংলাদেশ লেদার অ্যান্ড ফুটওয়্যার এক্সপো চামড়া, জুতা ও লেদার গুডস শিল্পের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম।

 

এই এক্সপো সাধারণত ICCB, ঢাকা-তে অনুষ্ঠিত হয় এবং এতে জুতা ও চামড়াজাত পণ্য তৈরির যন্ত্রপাতি, কেমিক্যালস, কাঁচামাল, উপকরণ এবং সম্পূর্ণ উৎপাদন লাইন প্রদর্শিত হয়।

 

আমদানিকারক ও আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের জন্য এটি বাংলাদেশের চামড়া ও ফুটওয়্যার শিল্পের সক্ষমতা যাচাইয়ের একটি কার্যকর মাধ্যম।

 

১০) ফুড বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল এক্সপো ও এগ্রো বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল এক্সপো

বাংলাদেশের কৃষি ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাত শিল্পের বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে ফুড বাংলাদেশ ও এগ্রো বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল এক্সিবিশনগুলোর গুরুত্ব দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে।

 

এই প্রদর্শনীগুলোতে খাদ্যপণ্য, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, কৃষি যন্ত্রপাতি, ফুড প্রসেসিং প্রযুক্তি, প্যাকেজিং, কোল্ড চেইন, পোল্ট্রি ও লাইভস্টক সল্যুশন এবং এগ্রি-টেক প্রদর্শিত হয়।

 

বিদেশি প্রদর্শকদের জন্য এগুলো বাংলাদেশে খাদ্য ও কৃষিভিত্তিক আমদানিকারক ও ডিস্ট্রিবিউটর খোঁজার একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম।

 

বাংলাদেশের বাইরে “মেইড ইন বাংলাদেশ” এক্সিবিশন: ব্রাজিলের অভিজ্ঞতা

বাংলাদেশের ট্রেড এক্সিবিশন কৌশল এখন কেবল দেশের ভেতরে সীমাবদ্ধ নয়; বরং বিদেশে বাংলাদেশ-ব্র্যান্ডেড প্রদর্শনী আয়োজনের মাধ্যমে নতুন বাজারে প্রবেশের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

 

এর একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হলো ব্রাজিলের সাও পাওলোতে আয়োজিত “মেইড ইন বাংলাদেশ এক্সিবিশন”, যা ব্রাজিল–বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (BBCCI) আয়োজন করে।

 

এই প্রদর্শনীর মূল লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশের রপ্তানিযোগ্য পণ্যসমূহকে লাতিন আমেরিকার বৃহৎ বাজারে উপস্থাপন করা, বাজার বৈচিত্র্যকরণ, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বৃদ্ধি এবং ব্রাজিলসহ আশপাশের অঞ্চলের আমদানিকারক ও ডিস্ট্রিবিউটরদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন।

 

এই ধরনের বিদেশভিত্তিক এক্সিবিশন বাংলাদেশের রপ্তানিকারকদের জন্য নতুন বাজারে প্রবেশের ঝুঁকি কমায় এবং দেশীয় পণ্যের জন্য একটি সমন্বিত জাতীয় ব্র্যান্ড ইমেজ তৈরি করে।

 

বাংলাদেশ ট্রেড এক্সিবিশনের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা

বাংলাদেশের ট্রেড এক্সিবিশনগুলো ধীরে ধীরে আরও বেশি কিউরেটেড, ফলপ্রসূ ও বাণিজ্যিকভাবে কার্যকর B2B ফরম্যাটে রূপ নিচ্ছে। বায়ার–সেলার ম্যাচমেকিং, সেক্টরভিত্তিক জোনিং, টেকসই উৎপাদন ও কমপ্লায়েন্স প্রদর্শনী, এবং ডিজিটাল লিড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম এখন এসব এক্সিবিশনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠছে। যেহেতু বাংলাদেশের বার্ষিক রপ্তানি আয় ইতোমধ্যেই কয়েক দশ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে, তাই এই ট্রেড এক্সিবিশনগুলোই ভবিষ্যতে শিল্প উন্নয়ন, বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং নতুন আন্তর্জাতিক বাজার সৃষ্টির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করবে।