ব্রাজিলের কাস্টমস শুল্ক

ব্রাজিলের কাস্টমস শুল্ক

মোঃ জয়নাল আব্দীন
প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট বাংলাদেশ (টিআইবি)
সম্পাদক, টিএন্ডআইবি বিজনেস ডিরেক্টরি; নির্বাহী পরিচালক, অনলাইন ট্রেনিং একাডেমি
মহাসচিব, ব্রাজিল বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (বিবিসিসিআই)

 

নির্বাহী সারসংক্ষেপ: ব্রাজিলের কাস্টমস ব্যবস্থা মূলত এর মারকোসুর (Mercosur) অঙ্গীকার ও একটি জটিল কর কাঠামোর দ্বারা নির্ধারিত। আমদানিকৃত পণ্য মারকোসুরের সাধারণ নামকরণ (Nomenclatura Comum do Mercosul—NCM, যা HS কোডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ) অনুযায়ী শ্রেণিবদ্ধ হয় এবং সাধারণ শুল্ক মারকোসুরের কমন এক্সটার্নাল ট্যারিফ (CET) অনুসরণ করে। ব্রাজিলের গড় সর্বাধিক সুবিধাপ্রাপ্ত দেশ (MFN) শুল্ক প্রায় ১২%[1]; মূলধনী পণ্যের ক্ষেত্রে শুল্ক সাধারণত শূন্য বা খুব কম, আর টেক্সটাইল ও পোশাকের মতো ভোক্তা পণ্যে হার বেশি (১৬–২০%)[2]। ২০২২–২০২৩ সালে ব্রাজিল সাময়িকভাবে অধিকাংশ আমদানিতে ১০% শুল্ক হ্রাস করেছিল[3]। আমদানি শুল্ক (II) CIF মূল্যের ওপর অ্যাড ভ্যালোরেম ভিত্তিতে আরোপিত হয়[4] এবং এর সঙ্গে অন্যান্য কর (IPI, PIS/COFINS, ICMS) যোগ হয়ে মোট ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ায়[5][6]। নন-ট্যারিফ ব্যবস্থা (NTM) ব্যাপক: ৮৬% আমদানিতে অন্তত একটি NTM প্রযোজ্য[7], বিশেষত প্রযুক্তিগত ও স্যানিটারি বিধি। ব্রাজিল Siscomex সিঙ্গেল-উইন্ডো (Portal Único) ও AI-ভিত্তিক নির্বাচন ব্যবস্থার মাধ্যমে কাস্টমস আধুনিকায়ন করেছে[8][9], ফলে রপ্তানি ক্লিয়ারেন্স সময় ~১০৮ ঘণ্টায় নেমেছে[10]। টেক্সটাইল, পোশাক, পাট ও চামড়ার মতো খাতে তুলনামূলকভাবে উচ্চ শুল্ক (প্রায় ~১৮–২০%)[2] আরোপিত হয়, যেখানে যন্ত্রপাতি ও মূলধনী পণ্যে শুল্ক খুব কম বা শূন্য[2]। ২০২৩ সালে ব্রাজিল প্রায় ~$২৪০ বিলিয়ন মূল্যের পণ্য আমদানি করেছে[11], যা থেকে উল্লেখযোগ্য শুল্ক রাজস্ব (প্রায় কর আয়ের ৩.৫%[12]) অর্জিত হয়েছে। ব্রাজিল–বাংলাদেশ বাণিজ্য তুলনামূলকভাবে ছোট: ২০২৩/২৪ সালে ব্রাজিলের বাংলাদেশে রপ্তানি প্রায় $২.৬–২.৭ বিলিয়ন[13], আর বাংলাদেশের রপ্তানি মাত্র ~$১৫৬–১৭৫ মিলিয়ন[14]। বাংলাদেশি রপ্তানি উন্নীত করতে বাণিজ্য মিশন, নেটওয়ার্কিং ও অ্যাডভোকেসির মাধ্যমে ব্রাজিল–বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স (BBCCI) সক্রিয় ভূমিকা রাখছে[15][16]। এই প্রবন্ধে বর্তমান তথ্য ও উদাহরণসহ ব্রাজিলের কাস্টমস শুল্ক বিশদভাবে আলোচনা করা হয়েছে এবং বাংলাদেশি রপ্তানিকারকদের জন্য ব্যবহারিক দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

 

কাস্টমস শুল্ক কর কাঠামো

ব্রাজিলের আমদানি কর ব্যবস্থায় একাধিক কর অন্তর্ভুক্ত: আমদানি শুল্ক (II), শিল্পোৎপাদিত পণ্য কর (IPI), PIS/COFINS অবদান এবং রাজ্য-পর্যায়ের ICMS। II হলো CIF মূল্যের ওপর অ্যাড ভ্যালোরেম শুল্ক[4]। ব্রাজিলের MFN গড় আমদানি শুল্ক ~১২% (২০২৪)[1]। মূলধনী পণ্যে প্রায়ই ০%–১৪% শুল্ক; বিপরীতে টেক্সটাইল, পোশাক ও বহু ভোক্তা পণ্যে ১৬–২০%[2]। উদাহরণস্বরূপ, ২০০৬ সালে CET যন্ত্রপাতি (মূলধনী পণ্য) ০–১৪% এবং টেক্সটাইল ও পোশাকে ১৬–২০% নির্ধারণ করেছিল[2]। (এই পরিসরগুলো এখনও মোটামুটি প্রযোজ্য।) সর্বোচ্চ বাঁধা হার আরও বেশি (শিল্পপণ্যে ৩৫%, কিছু কৃষিপণ্যে ৫৫%)[17]। আমদানি শুল্ক থেকে রাজস্ব উল্লেখযোগ্য: ২০২৩ সালে কাস্টমস ও আমদানি শুল্ক ব্রাজিলের মোট কর আয়ের ~৩.৫২% ছিল[12]।

 

II-এর ওপর IPI হলো উৎপাদিত পণ্যের ফেডারেল কর (আমদানিকৃত বা দেশীয়), যা (CIF + II)-এর ওপর আরোপিত হয় এবং সাধারণত ০–১৫%[18]। PIS/COFINS হলো ফেডারেল অবদান (~৯.২৫% মোট মানক) যা সব আমদানিতে আরোপিত হয় (ফেরতযোগ্য নয়) এবং সামাজিক কর্মসূচিতে অর্থায়নে ব্যবহৃত হয়[5]। সর্বশেষে ICMS হলো রাজ্য-পর্যায়ের VAT (সাধারণত ১৭–১৯%) যা (CIF + II + IPI + PIS/COFINS) সমগ্র ভিত্তির ওপর ধার্য হয়[19][20]। গুরুত্বপূর্ণভাবে, আমদানিতে প্রদত্ত ICMS পরবর্তী বিক্রয়ে ক্রেডিটযোগ্য হলেও পণ্য ছাড়ের আগে পরিশোধ করতে হয়। বাস্তবে এসব কর স্তরে স্তরে যোগ হয়: আমদানিকৃত পণ্যের কার্যকর করভার ৫০%-এরও বেশি হতে পারে। চিত্র ১ একটি সাধারণ আমদানির কর-ক্যাসকেড দেখায়।

 

flowchart LR

CIF[Cost, Insurance & Freight (CIF)] –> II[+ Import Duty (II)]

II –> IPI[+ IPI (0–15%)]

IPI –> PISCOFINS[+ PIS/COFINS (~9.25%)]

PISCOFINS –> ICMS[+ ICMS (17–19%)]

ICMS –> TOTAL[= Total Import Cost]

চিত্র ১: ব্রাজিলে সরলীকৃত আমদানি কর ক্যাসকেড (করগুলো CIF মূল্যের ওপর যোগ হয়[4][19])।

 

ট্যারিফ সূচি সাম্প্রতিক নীতি পরিবর্তন

ব্রাজিল মারকোসুর CET সূচি (CET বা TEC) অনুসরণ করে। ১৯৯৫ সালে মারকোসুর সদস্যরা একটি কমন এক্সটার্নাল ট্যারিফ ও নামকরণ (NCM) গ্রহণ করে[21]। মারকোসুর বিধি অনুযায়ী সদস্য দেশগুলো অভ্যন্তরীণ শুল্ক বিলোপ করে (তত্ত্বগতভাবে) এবং ৭৫% লাইনে একটি সাধারণ বহিঃশুল্ক ভাগ করে; প্রতিটি দেশ সংবেদনশীল লাইন (~ব্রাজিলে ৩০০) অব্যাহতি দিতে পারে[22]। CET বহু পণ্যে তুলনামূলকভাবে উচ্চ, সব পণ্যে গড়ে ~১১–১২%[23][1]। উল্লেখযোগ্যভাবে, ব্রাজিল প্রায়ই মূলধনী পণ্য ও প্রযুক্তির জন্য “এক্স-ট্যারিফ” ছাড় (সাময়িক কম শুল্ক) দেয়।

 

সাম্প্রতিককালে ব্রাজিল এককালীন বড় শুল্ক কাটছাঁট করে। ২০২২ সালের মাঝামাঝি ব্রাজিল সরকার একতরফাভাবে ৮৭% আমদানিতে CET ১০ শতাংশ পয়েন্ট কমায়[3] মুদ্রাস্ফীতি মোকাবিলায়। এই হ্রাস মারকোসুর কর্তৃক অনুমোদিত ছিল এবং জানুয়ারি ২০২৩ থেকে কার্যকর হয়; শিম, মাংস, চিনি, নির্মাণসামগ্রী ইত্যাদি অন্তর্ভুক্ত ছিল[3]। এটি ৩১ ডিসেম্বর ২০২৩-এ মেয়াদোত্তীর্ণ হয়। এ পদক্ষেপে নামমাত্র CET কমে (যেমন, পূর্বের ১৮% শুল্ক ৮%-এ নেমে আসে)[3]। ২০২২–২০২৩ জুড়ে এটি ভোক্তা মূল্য কমায় এবং জিডিপিতে R$৫৩৩ বিলিয়ন যোগ হওয়ার পূর্বাভাস দেয়[24]।

 

এরপর মারকোসুর নতুন বহিঃচুক্তি নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। ২০২৩ সালে সিঙ্গাপুরের সঙ্গে একটি FTA সম্পন্ন হয়[25], এবং ২০২৬ সালে মারকোসুর–ইইউ বাণিজ্য চুক্তি সম্পাদিত হয়। ব্রাজিল ও বাংলাদেশ শুল্ক আরও কমাতে মারকোসুর–বাংলাদেশ প্রেফারেনশিয়াল ট্রেড অ্যাগ্রিমেন্ট (PTA) অনুসন্ধান করছে[26]। ট্যারিফ সূচি নিয়মিত হালনাগাদ হয়; রপ্তানিকারকদের উচিত ব্রাজিলিয়ান Portal Único de Comércio Exterior (Siscomex) থেকে বর্তমান NCM-ভিত্তিক শুল্কহার যাচাই করা (অর্থনীতি মন্ত্রণালয় সব NCM কোড ও শুল্ক প্রকাশ করে[21])।

 

নন-ট্যারিফ ব্যবস্থা (NTM)

ব্রাজিল বিশেষত প্রযুক্তিগত ও স্যানিটারি বিধিতে বহু NTM প্রয়োগ করে। World Bank WITS ডেটা অনুযায়ী, ব্রাজিলের ৮৬.৪% আমদানিতে অন্তত একটি NTM প্রযোজ্য[7] (যা বৈশ্বিক গড়ের তুলনায় বেশি)। সবচেয়ে সাধারণ NTM হলো সার্টিফিকেশন ও লেবেলিং শর্ত, যা প্রায়ই স্যানিটারি বা প্রযুক্তিগত বাধা হিসেবে যুক্তিযুক্ত করা হয়[27]। উদাহরণস্বরূপ, ৬৭.৭% আমদানিতে পণ্য সার্টিফিকেশন এবং ৬৭.৪% আমদানিতে নির্দিষ্ট লেবেলিং প্রয়োজন[27]। টেক্সটাইল ও যন্ত্রপাতির মতো খাতে প্রায় সর্বব্যাপী NTM কভারেজ (৯৩–১০০%)[28]। কোটা ও সেফগার্ড তুলনামূলকভাবে কম; প্রায় ৩৯% আমদানিতে পরিমাণগত সেফগার্ড বা আমদানি লাইসেন্সিং ব্যবস্থা প্রযোজ্য[29]।

 

প্রধান NTM অন্তর্ভুক্ত:

  • স্যানিটারি/ফাইটোস্যানিটারি (SPS) বিধি: ব্রাজিলের সংস্থাগুলো (যেমন MAPA, Anvisa, INMETRO) স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা মান কঠোরভাবে প্রয়োগ করে। বহু খাদ্য, ওষুধ ও টেক্সটাইল চালানে SPS পরীক্ষা হয়।
  • বাণিজ্যে প্রযুক্তিগত বাধা (TBT): লেবেলিং, প্যাকেজিং ও পণ্যমানের প্রযুক্তিগত বিধি সাধারণ; নিরাপত্তা উন্নয়নের যুক্তি দেখালেও প্রায়ই সুরক্ষাবাদী হিসেবে দেখা হয়।
  • আমদানি লাইসেন্সিং: অধিকাংশ লাইসেন্সিং স্বয়ংক্রিয় হলেও কিছু কৌশলগত পণ্যে (যেমন টেলিকম, কেমিক্যাল) বিশেষ অনুমতি দরকার (WITS-এ E111)[30]।

 

রপ্তানিকারকেরা প্রায়ই একাধিক সংস্থার ডুপ্লিকেট পরিদর্শন নিয়ে অভিযোগ করেন, যা বিদেশি ব্যবসা পর্যালোচনায় বাধা হিসেবে চিহ্নিত[31]। “Capta” সিস্টেম (Consulta de Acordos Tarifários) কোম্পানিগুলোকে তাদের পণ্যে ব্রাজিলের FTA বা একতরফা ছাড় প্রযোজ্য কি না যাচাইয়ে সহায়তা করে।

 

কাস্টমস মূল্যায়ন উৎপত্তি বিধি

ব্রাজিল WTO মূল্যায়ন বিধি অনুসরণ করে: কাস্টমস ভ্যালুয়েশন অ্যাগ্রিমেন্ট অনুযায়ী প্রধান পদ্ধতি হলো লেনদেনমূল্য (প্রকৃত পরিশোধিত মূল্য)। এটি অবিশ্বস্ত হলে কাস্টমস বিকল্প পদ্ধতি (একই ধরনের পণ্য ইত্যাদি) ব্যবহার করতে পারে। আমদানিকারকদের জানা উচিত যে ব্রাজিল কিছু সংবেদনশীল পণ্যের জন্য রেফারেন্স ভ্যালু (“Valor Aduaneiro de Referência”) নির্ধারণ করে, যা আন্ডার-ইনভয়েসিং ঠেকাতে কার্যত ন্যূনতম মূল্য হিসেবে কাজ করে।

 

প্রেফারেনশিয়াল কর্মসূচিতে উৎপত্তি বিধি গুরুত্বপূর্ণ। মারকোসুরের মধ্যে সদস্য রাষ্ট্রে “উৎপন্ন” পণ্য তত্ত্বগতভাবে শুল্কমুক্ত (যদিও বহু ব্যতিক্রম আছে)। ব্রাজিল তার FTA-গুলোর জন্যও উৎপত্তি বিধি প্রয়োগ করে। উদাহরণস্বরূপ, ব্রাজিল–ভারত PTA বা মারকোসুর মুক্তবাণিজ্য চুক্তিতে ন্যূনতম দেশীয় কনটেন্ট প্রয়োজন। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে, সম্ভাব্য মারকোসুর–বাংলাদেশ PTA নিজস্ব উৎপত্তি মানদণ্ড নির্ধারণ করবে। টেক্সটাইল ও পোশাকে ব্রাজিল আন্তর্জাতিক মান (যেমন yarn-forward নিয়ম) অনুসরণ করে।

 

আমদানি প্রক্রিয়া কাস্টমস ক্লিয়ারেন্স

ব্রাজিলের আমদানি প্রক্রিয়া Siscomex (Integrated Foreign Trade System) পোর্টালের মাধ্যমে ইলেকট্রনিকভাবে পরিচালিত হয়, যা সিঙ্গেল উইন্ডো “Portal Único”-এর অংশ। Siscomex ব্যবহারের জন্য আমদানিকারকদের RADAR লাইসেন্স থাকতে হয়[32]। প্রয়োজনীয় নথির মধ্যে রয়েছে বাণিজ্যিক ইনভয়েস, বিল অব লেডিং, আমদানি ঘোষণা (DU-E), এবং উৎপত্তি বা কমপ্লায়েন্স সার্টিফিকেট (পণ্যভেদে)।

 

ঝুঁকিভিত্তিক নির্বাচন ব্যবহৃত হয়: প্রায় ৯০% ঘোষণা “গ্রিন চ্যানেল”-এ পড়ে এবং কোনো শারীরিক পরিদর্শন লাগে না[33]। AI-ভিত্তিক SISAM সিস্টেম (কাস্টমস নির্বাচন) সব আমদানি ঘোষণা স্ক্রিন করে, শ্রেণিবিন্যাস বা মূল্যে অস্বাভাবিকতা শনাক্ত করতে মেশিন লার্নিং ব্যবহার করে[8]। এতে শুল্ক আদায় ও কমপ্লায়েন্সের নির্ভুলতা বেড়েছে। CLASSIF নামে একটি পরিপূরক সিস্টেম আমদানিকারকদের টেক্সট বর্ণনা ব্যবহার করে সঠিক NCM কোড স্ব-সনাক্ত করতে সহায়তা করে[34]।

 

বাণিজ্য সুবিধাকরণে ক্লিয়ারেন্স সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ২০২৩ সালের টাইম রিলিজ স্টাডিতে দেখা যায়, ব্রাজিল রপ্তানি ক্লিয়ারেন্স সময় ৩১২ থেকে ১০৭ ঘণ্টায় নামিয়েছে[10]। আমদানি ক্লিয়ারেন্সও উপকৃত: ডিজিটাল প্রসেসিং ও সমন্বিত সংস্থার মাধ্যমে মোট কাস্টমস প্রক্রিয়াকরণ সময় (মূলত কাগজপত্র) কম। World Bank ডেটা অনুযায়ী আমদানি ক্লিয়ার করার গড় সময় নিম্নমুখী (যদিও ২০২৫-এর নির্দিষ্ট সংখ্যা প্রকাশিত নয়)। এর মূল চালিকা শক্তি হলো ২০১৪ সালে চালু হওয়া Portal Único, যা এক ডজনের বেশি নিয়ন্ত্রক সংস্থা (কর, স্বাস্থ্য, কৃষি, পরিবেশ) এক প্ল্যাটফর্মে একীভূত করেছে[35]। উদাহরণস্বরূপ, ANVISA ও MAPA-এর কাগজপত্র এখন Siscomex-এর মাধ্যমে দাখিল করা যায়, ফলে ডুপ্লিকেট পরিদর্শন কমে।

 

সাধারণ ক্লিয়ারেন্স ধাপ: ঘোষণা দাখিলের পর তাৎক্ষণিক ছাড় সম্ভব (গ্রিন চ্যানেল)। নচেৎ নথি পর্যালোচনা বা পরিদর্শন হবে এবং যেকোনো শুল্ক/কর পরিশোধ করতে হবে। অর্থায়ন বিকল্পে সরবরাহকারী ক্রেডিট বা ব্রাজিলিয়ান ব্যাংক ফাইন্যান্সিং অন্তর্ভুক্ত; অধিকাংশ ক্ষেত্রে অগ্রিম পরিশোধ বা লেটার অব ক্রেডিট ব্যবহৃত হয়[36][37]। ব্রাজিলিয়ান কাস্টমসের সহনশীলতা কঠোর: ভুল শ্রেণিবিন্যাসে জরিমানা হতে পারে, তাই সঠিক বর্ণনা ও HS কোডিং (SISAM/CLASSIF সহায়ক) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ব্রাজিলের কাস্টমস শুল্ক
ব্রাজিলের কাস্টমস শুল্ক

বাণিজ্য সুবিধাকরণ ডিজিটালাইজেশন

ব্রাজিল কাস্টমস ডিজিটালাইজেশনে অগ্রগামী। Portal Único de Comércio Exterior (PUCOMEX) এখন ১০০% আমদানি/রপ্তানি নথি পরিচালনা করে। সাম্প্রতিক উদ্ভাবনে DU-E ফর্মে QR কোড এবং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা (SISAM) প্রয়োগকারী ডেটাবেসের সঙ্গে একীভূতকরণ অন্তর্ভুক্ত[38]। ২০২৩ সালের একটি গবেষণা (WCO দ্বারা যাচাইকৃত) নিশ্চিত করেছে যে ব্রাজিলের উন্নত ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার ফলে রপ্তানি সময়ের মাত্র ~৩% সরকারী প্রক্রিয়ায় ব্যয় হয়[39], অর্থাৎ কাস্টমস ধাপ দ্রুত। এছাড়া মোবাইল ডিভাইস ও শুল্কের ইলেকট্রনিক পেমেন্ট (Importer of Record সিস্টেম) আমদানি আরও সরল করেছে।

 

তবে কিছু লিগ্যাসি সমস্যা রয়ে গেছে: রাজ্য-পর্যায়ের ICMS এখনও আন্তঃরাজ্য কর পরিশোধে ট্যাক্স ভাউচার (GNRE) জড়িত রাখে, এবং শিপিং লজিস্টিকস (যেমন বন্দর জট) কাস্টমস ছাড়ের পরও পণ্য বিলম্বিত করতে পারে[40]। কাস্টমস আন্ডার-ইনভয়েসিং, চোরাচালান বা ভুল ঘোষণার জন্য কঠোর শাস্তি প্রয়োগ করে। সার্বিকভাবে, সাম্প্রতিক সংস্কারে ক্লিয়ারেন্স ও কমপ্লায়েন্স দ্রুত হলেও প্রয়োগ শক্তিশালী।

 

বাণিজ্য প্রতিকার সেফগার্ড

ব্রাজিল বিশেষত টেক্সটাইল, স্টিল ও কেমিক্যাল খাতে অ্যান্টি-ডাম্পিং (AD) ও সেফগার্ড ব্যবস্থায় সক্রিয়। এটি বহু AD/কাউন্টারভেইলিং তদন্ত শুরু করেছে; উদাহরণস্বরূপ, সাম্প্রতিক মামলায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভিনাইল ক্লোরাইড অন্তর্ভুক্ত ছিল[41]। সেফগার্ড ও কোটা বিরল হলেও ব্রাজিল প্রায় ১,১০০ ট্যারিফ লাইনে নজরদারি বজায় রাখে, প্রধানত সংবেদনশীল ভোক্তা বা আইটি পণ্যে।

 

WITS NTM ডেটা অনুযায়ী, “সেফগার্ড পরিমাণগত সীমাবদ্ধতা” (NTM D313) আমদানির ৩৯% কভারেজ অনুপাতকে প্রভাবিত করে (যদিও বাণিজ্য ভলিউমে কভারেজ কম)[29]। ব্রাজিলের অর্থনীতি মন্ত্রণালয় সব সক্রিয় AD/CVD ব্যবস্থার একটি সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত সারণি রক্ষণাবেক্ষণ করে। রপ্তানিকারকদের আকস্মিক শুল্ক পরিবর্তনে সতর্ক থাকা উচিত: সাম্প্রতিক উদাহরণে PVC ও স্টিলের ওপর শুল্ক বৃদ্ধি অন্তর্ভুক্ত। সামগ্রিকভাবে, বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো ব্রাজিলের প্রতিকার ব্যবহাকে আক্রমণাত্মক হিসেবে উল্লেখ করে; রপ্তানিকারকদের কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করতে এবং বিশেষত কেমিক্যাল, ধাতু ও টেক্সটাইল খাতে পরিবর্তনশীল শুল্কের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।

 

খাতভিত্তিক শুল্ক প্রভাব

 

কাস্টমস শুল্ক খাতভেদে ভিন্ন। প্রধান উদাহরণ:

HS Chapter   Product Group                 Typical CET (%)   Comments

50–63        Textiles & Clothing           16–20%            Majority 18%; apparel often at higher end[2].

64–67        Footwear & Headgear            18–20%            Footwear often 20%; e.g. leather shoes ~20%.

50–63 (Raw)  Jute, Hemp, Cotton             12–16%            Vegetable fibers ~14% (lower agri bracket[2]).

41–43        Leather & Hides                18–20%            Tanned leather generally 18%.

27–32        Mineral Fuels & Oils            0–10%             Some fuels 0% (petroleum); others ~10%.

84–85        Machinery & Vehicles            0–14%             Capital goods often 0%; engines ~2%.

90–99        Instruments, Misc.              16–18%            Consumer electronics ~16%.

 

সারণি: প্রধান HS শ্রেণিতে CET শুল্কের উদাহরণ (মূলধনী পণ্যে ০% থেকে কিছু নির্বাচিত পণ্যে সর্বোচ্চ ৫৫% পর্যন্ত[42][2])।

 

খাতভিত্তিক প্রভাব: উচ্চ শুল্ক স্থানীয় শিল্পকে সুরক্ষা দেয়। উদাহরণস্বরূপ, ব্রাজিলের টেক্সটাইল/পোশাক শুল্ক (~১৮%) অনেক দেশের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ, যা পোশাকে $৫.৬ বিলিয়ন আমদানি ঘাটতিতে (২০২৩) ভূমিকা রেখেছে[43]। ফার্মাসিউটিক্যালস ও হার্ডওয়্যারেও মাঝারি শুল্ক (IPI ভিন্নভাবে প্রযোজ্য) স্থানীয় উৎপাদন সুরক্ষায় সহায়ক। যন্ত্রপাতি ও মূলধনী সরঞ্জামে বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে শুল্ক কম। সামগ্রিকভাবে, ভারী শিল্প ও খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ সুরক্ষা পায়, আর মূলধনী-নির্ভর পণ্য শুল্কমুক্ত।

 

বাণিজ্য শুল্ক রাজস্ব পরিসংখ্যান

২০২৩ সালে ব্রাজিলের পণ্য আমদানি ছিল প্রায় US$২৪০.৪ বিলিয়ন[11]। শীর্ষ আমদানি অংশীদার চীন (≈US$৩৬ বিলিয়ন), যুক্তরাষ্ট্র, আর্জেন্টিনা, জার্মানি ও দক্ষিণ কোরিয়া প্রধানত যন্ত্রপাতি, ইলেকট্রনিক্স ও শিল্প ইনপুট (World Bank ডেটা)। MFN গড় শুল্ক ~১২%[1]; প্রেফারেনশিয়াল কর্মসূচি (মারকোসুর, একতরফা কাট) বিবেচনায় নিলে ট্রেড-ওয়েটেড গড় শুল্ক ~৮–৯%[1]।

 

সরকার উল্লেখযোগ্য রাজস্ব পায়: ২০২৩ সালে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ওপর কর (মূলত II, আমদানিতে PIS/COFINS, ও আমদানি-সংযুক্ত ICMS) মোট কর আয়ের প্রায় ৩.৫% ছিল[12]। সুনির্দিষ্ট কাস্টমস শুল্ক রাজস্ব Receita Federal বার্ষিক প্রকাশ করে; ২০২২ সালে আমদানি শুল্ক ছিল প্রায় R$৬৯ বিলিয়ন। নন-ট্যারিফ ফি (যেমন AFRMM ফ্রেইট সারচার্জ) আরও কয়েকশ মিলিয়ন যোগ করে।

 

ব্রাজিল–বাংলাদেশ বাণিজ্য সম্পর্ক

ব্রাজিল ও বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বেড়েছে কিন্তু ভারসাম্যহীন। ২০২৩ সালে বাংলাদেশের ব্রাজিল থেকে আমদানি ছিল প্রায় US$২.৬৬–২.৭২ বিলিয়ন[13][44], যা ব্রাজিলকে শীর্ষ-৫ সরবরাহকারীর মধ্যে রাখে (FY২০২৩–২৪-এ বাংলাদেশের আমদানির ৪.২%[13])। বাংলাদেশের ব্রাজিলে রপ্তানি তুলনামূলকভাবে খুব কম (FY২০২২–২৪-এ প্রায় $১৫৬–১৭৫ মিলিয়ন[14]), প্রধানত নিট পোশাক ও টেক্সটাইল। একটি সূত্রে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের RMG শিল্প বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে ব্রাজিলের বাজারে প্রবেশের চেষ্টা করছে[14]। ব্রাজিলের টেক্সটাইল/পোশাক আমদানি (২০২৩-এ ≈$৫.৮ বিলিয়ন) মূলত চীনের দখলে, তবে বিশ্লেষকেরা বাংলাদেশি পোশাকের সুযোগ দেখছেন[46]।

 

উভয় সরকার সম্ভাবনা স্বীকার করে। মারকোসুর–বাংলাদেশ PTA আলোচনা চলছে[26]। ২০২৪ সালে দুই দেশ একটি কারিগরি সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে[26]। খাতভিত্তিকভাবে উভয় দিকেই সুযোগ রয়েছে: ব্রাজিল কাঁচামাল (কটন, চিনি, মাংস) বাংলাদেশে সরবরাহ করে, আর বাংলাদেশ ব্রাজিলে পোশাক, পাটজাত পণ্য, চামড়া, সিরামিক ও ফার্মাসিউটিক্যালস দিতে পারে[47][48]।

Top Exportable Products from Bangladesh
Top Exportable Products from Bangladesh

বাংলাদেশে বাজারপ্রবেশে BBCCI-এর ভূমিকা

ব্রাজিল–বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (BBCCI) এই সম্পর্ক জোরদারে প্রতিষ্ঠিত। এটি বাংলাদেশি রপ্তানিকারকদের ব্রাজিলিয়ান আমদানিকারক, কর্মকর্তা ও নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে নেটওয়ার্কিংয়ের প্ল্যাটফর্ম দেয়[16]। BBCCI বাণিজ্য মিশন, ব্যবসায়িক প্রতিনিধিদল, সেমিনার ও যৌথ ফোরাম আয়োজন করে[16]। উদাহরণস্বরূপ, বাংলাদেশি পণ্য যেসব বাজার-নিশ পূরণ করতে পারে, সেসব খাত তুলে ধরে:

  • পোশাক টেক্সটাইল: বাংলাদেশের নিটওয়্যার রপ্তানি ব্রাজিলে বাড়ছে; BBCCI প্রাইভেট-লেবেল অংশীদারিত্বের মাধ্যমে বোনা পোশাকের সুযোগ প্রচার করে[47]।
  • পাটজাত পণ্য: টেকসই উপকরণে নেতৃত্বের কারণে বাংলাদেশ জুট স্যাক, ব্যাগ ও জিওটেক্সটাইল সরবরাহ করতে পারে; BBCCI গুণগত মানে দিকনির্দেশনা দেয়।
  • চামড়া জুতা: শক্তিশালী দেশীয় জুতা শিল্প থাকা সত্ত্বেও ব্রাজিল হাইড আমদানি করে; বাংলাদেশি ট্যানারি ফ্যাশন অ্যাক্সেসরিজের মতো সেগমেন্ট লক্ষ্য করতে পারে[49]।
  • ফার্মাসিউটিক্যালস: বাংলাদেশের কমদামি জেনেরিক ওষুধ ব্রাজিলের সরকারি ও বেসরকারি স্বাস্থ্যখাতে প্রবেশ করতে পারে, যদিও ANVISA নিবন্ধন একটি চ্যালেঞ্জ[50]।
  • সিরামিক লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং: নির্মাণ ও আতিথেয়তা খাতে বাংলাদেশি সিরামিক ও ক্ষুদ্র যন্ত্রাংশের চাহিদা রয়েছে[51]।

 

BBCCI বাজার গাইড প্রকাশ করে (যেমন “Prospects of RMG Exports”, “Sugar Import Guide”) এবং বাণিজ্য মেলায় অংশগ্রহণে সহায়তা করে। এটি সহজ বাজারপ্রবেশের পক্ষে লবিংও করে, যেমন ব্রাজিলের শুল্ক ছাড়ে বাংলাদেশি RMG অন্তর্ভুক্তির পক্ষে। বাংলাদেশি রপ্তানিকারকদের জন্য BBCCI স্থানীয় ডিস্ট্রিবিউটরের সঙ্গে অংশীদারিত্ব (যারা রাজ্য কর ও বিধি বোঝে) এবং প্রযুক্তিগত মান পূরণে ISO/INMETRO সার্টিফিকেশন নেওয়ার সুপারিশ করে।

 

তথ্যের সীমাবদ্ধতা ঘাটতি

ব্রাজিলের কাস্টমস ব্যবস্থার পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণে ডেটা ঘাটতি রয়েছে। ব্রাজিলের ট্যারিফ সূচি বিস্তারিত (৮-অঙ্কের NCM), তবে অফিসিয়াল রেজোলিউশনের মাধ্যমে নিয়মিত হালনাগাদ হয় (Diário Oficial)। প্রকাশিত গড় (যেমন WTO প্রোফাইল[11]) বিস্তৃত। নন-ট্যারিফ ডেটা (WITS NTM) নোটিফিকেশনের ওপর ভিত্তি করে এবং বাস্তব বাধা কম গণনা করতে পারে (ব্রাজিলে প্রকৃত NTM কভারেজ বেশি মনে হয়[7])। বাণিজ্য পরিসংখ্যান এক বছর পিছিয়ে; সর্বশেষ ব্রাজিল–বাংলাদেশ ডেটা FY২০২৩–২৪ উৎস থেকে[13]।

 

দ্বিপাক্ষিক বিশদ (যেমন খাতভিত্তিক বাংলাদেশি রপ্তানির ভাঙন) জনসমক্ষে কম। খাতভিত্তিক প্রকৃত শুল্ক রাজস্ব বা সংস্কার-পরবর্তী ক্লিয়ারেন্স সময়ের ডেটা সীমিত। মাইক্রো স্তরে (ফার্ম/পণ্য) শুল্ক প্রভাবের গবেষণা খণ্ডিত। ফলে, অফিসিয়াল ডেটা (WTO, IMF, Receita) বেসলাইন দিলেও, গতিশীল অন্তর্দৃষ্টি সংবাদ, বাণিজ্য প্রকাশনা ও চেম্বার রিপোর্ট (যেমন [60] ও [61]) থেকে আসে, যেগুলোর স্বাধীন যাচাই নাও থাকতে পারে।

 

উপসংহার সুপারিশ

ব্রাজিলের কাস্টমস ব্যবস্থা উন্নত কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ শিল্প সুরক্ষামুখী। বাংলাদেশি রপ্তানিকারকদের জন্য এর অর্থ:

  • শ্রেণিবিন্যাস কর বোঝা: মারকোসুর NCM কোড ব্যবহার করে সঠিক শুল্ক নির্ধারণ করুন। মূল্য নির্ধারণে IPI, PIS/COFINS ও রাজ্য ICMS অন্তর্ভুক্ত করুন। টেক্সটাইল ও পোশাকে (~১৮–২০% II + VAT) মার্জিন পর্যাপ্ত রাখুন[2]।
  • অংশীদারিত্ব ও FTA কাজে লাগান: বিদ্যমান কাঠামোর সুযোগ নিন। মারকোসুর–বাংলাদেশ প্রেফারেন্স আলোচনার প্রেক্ষিতে কম শুল্কযোগ্য পণ্য শনাক্ত করুন। বর্তমানে ব্রাজিলের পোশাক ও পাটে ছাড় (তবু শুল্ক প্রযোজ্য) কাজে লাগান।
  • কমপ্লায়েন্স সার্টিফিকেশন: ব্রাজিলিয়ান নিয়ন্ত্রকদের সঙ্গে আগেভাগে যুক্ত হন। INMETRO, স্বাস্থ্য লাইসেন্স নিন এবং ANVISA/কৃষি মন্ত্রণালয়ের লেবেলিং মান পূরণ করুন। প্রযুক্তিগত শর্তে BBCCI বা স্থানীয় কনসালট্যান্টের সহায়তা নিন।
  • BBCCI নেটওয়ার্ক ব্যবহার করুন: ব্রাজিলে বাণিজ্য মিশনে অংশ নিতে BBCCI সদস্যপদ বিবেচনা করুন[15], এবং বাজার বুদ্ধিমত্তা পান[52]। জটিল بيرোক্রেসির কারণে ম্যাচমেকিং ও দরকষাকষিতে BBCCI সহায়ক।
  • বাণিজ্য প্রতিকার নজরদারি করুন: আপনার পণ্যে AD তদন্ত হলে সতর্ক থাকুন। লক্ষ্যভিত্তিক উচ্চ শুল্ক এলে BBCCI চ্যানেলে সংলাপ/বাণিজ্য কূটনীতির মাধ্যমে সমাধান খুঁজুন।
  • নিশ শক্তিতে ফোকাস করুন: BBCCI চিহ্নিত প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা জোর দিন: পাটজাত পণ্য (ইকো-ফ্রেন্ডলি), চামড়া উপাদান (মিড-রেঞ্জ), ও ফার্মাসিউটিক্যালস (জেনেরিক)। টেকসই ও কমদামি দিকটি ব্রাজিলিয়ান ক্রেতাদের কাছে তুলে ধরুন[48][50]।

 

সমাপনী মন্তব্য: ব্রাজিলের কাস্টমস শুল্ক ও বাণিজ্য বিধি চ্যালেঞ্জের পাশাপাশি সুযোগও দেয়। সাম্প্রতিক শুল্ক কাট ও চলমান বাণিজ্য চুক্তি কিছু ক্ষেত্রে আরও উন্মুক্ততার ইঙ্গিত দেয়। ব্যয়-দক্ষ উৎপাদনকারী বাংলাদেশি রপ্তানিকারকেরা শুল্ক ও নিয়ন্ত্রক পরিবেশ দক্ষতার সঙ্গে নেভিগেট করলে ব্রাজিলীয় চাহিদা ধরতে পারবেন। BBCCI-এর মতো সংস্থার মাধ্যমে ধারাবাহিক সহযোগিতা ও ব্রাজিলের পরিবর্তনশীল নীতিতে অভিযোজন লাতিন আমেরিকার বৃহত্তম বাজারে প্রবেশে সহায়ক হবে।

 

মূল রেফারেন্স: অফিসিয়াল ট্যারিফ ডেটা ও বাণিজ্য পরিসংখ্যান WTO ও সরকারি প্রকাশনা থেকে নেওয়া হয়েছে[11][4]। মারকোসুর অঙ্গীকার ও সংস্কার সংক্রান্ত একাডেমিক ও নীতিগত বিশ্লেষণ বিশ্বস্ত সূত্র থেকে[53][2]। দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য পরিসংখ্যান বাংলাদেশ ব্যাংক ও BBCCI রিপোর্টের ওপর নির্ভরশীল[13][54]। World Bank-এর WITS ডেটাবেস NTM কভারেজ জানায়[7], আর সংবাদ ও চেম্বার রিপোর্ট সাম্প্রতিক নীতি পরিবর্তন তুলে ধরে[3][10]। ডেটা সীমাবদ্ধতার মধ্যে রয়েছে বিলম্বিত অফিসিয়াল পরিসংখ্যান ও অসম্পূর্ণ NTM রিপোর্টিং।